গাইবান্ধায় ডিবির অভিযানে তিন ভূয়া সিআইডি গ্রেফতার
শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
জসিম উদ্দিন,পুলিশ সুপার,গাইবান্ধা এর দিকনির্দেশনায় এবং মোতালেব হোসেন,অফিসার ইনচার্জ,জেলা গোয়েন্দা শাখা,এর নেতৃত্বে একটি ডিবির চৌকস একটি আভিযানিক টিম গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানাধীন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ডিউটিতে নিয়োজিত থাকাকালীন,৫নং ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন এর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, এলাকার জনসাধারণ ০৩ জন ভূয়া সিআইডি পুলিশদেরকে আটক করে চেয়ারম্যানের,ব্যক্তিগত অফিসে রাখা হয়েছে। উক্ত বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ডিবির টিম তাং ১৬/০৭/২৬ খ্রিঃ ভোর ০৫ঃ১৫ ঘটিকায় গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর থানাধীন ৫নং ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এর ব্যক্তিগত অফিসে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের দেখানো মতে আসামী ১।মোঃ নাঈম (২০) পিতা- মোঃ মোশারফ হাওলাদার মাতা- মোছা: মরিয়ম বেগম,সাং-নিদ্রারচর, ডাকঘর- সকিনা, ২। রাকিবুল ইসলাম মোঃ(১৮), পিতাঃ মোঃ কবির, মাতাঃ মোছাঃ হাসিনা বেগম, সাং-মালিপাড়া, ডাক- তালতলী,উভয় থানা-তালতলী জেলা-বরগুনা, উভয়ের বর্তমান ঠিকানা-গোড়ান আলী আহমেদ স্কুল, ৩৫ নং রোড, মজুমদার টাওয়ার,বাসা নং-৪৮৫/এ, খিলগাও,ঢাকা,৩।শেখ শাদিউল ইসলাম (২০),পিতা-কামরুল ইসলাম,মাতা- হালিমা ইসলাম রোজী,সাং-শানুনিয়া, ডাক-ফুলার পাড়,থানা-মুকসুদপুর,জেলা- গোপালগঞ্জ,বর্তমান ঠিকানা-বাসা নং- ৪৩০/১, ৪৩০/২, রোড নং- ০৮,তিলপা পাড়া, খিলগাঁও, ঢাকাদেরকে গ্রেফতার করে। তারপর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এর উপস্থাপন মতে জব্দকৃত মালামাল ও আসামীদের ব্যবহৃত কালো রংয়ের কলেজ ব্যাগ হতে ০১।বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি এবং সিলেট জেলা পুলিশ সদর দফতর স্মারক নং- বি-কা/ সিআইডি/২০২৬/১০৭ সম্বলিত একটি ভূয়া অফিস আদেশ, যাহাতে পুলিশ সুপার সিলেট আবু ইউসুফ নামে স্বাক্ষরিত,০২।ওয়াকিটকি ওয়ারলেস সেট ০২ (দুই) টি, রং কালো, যাহাতে BAOFENG সেখা রয়েছে,৩।আকাশি রংয়ের হ্যান্ড গ্লোভস ০৭ (সাত) টি,৪।বাংলাদেশ পুলিশ লেখা ও লোগো সম্বলিত ০১ (একটি) মাস্ক, ০৫।একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ছোট বক্স যাহাতে সার্জিক্যাল ব্লেড ০২টি ও সোয়াব কটন ৩৫ (পয়ত্রিশ) টি,৬।একটি হংক প্যাড, যাহা TOP STAR লেখা ও তারকা লোগো সম্বলিত, ০৭। ধৃত আসামী শেখ সাদিউস ইসলাম মারুম ও রাকিবুল ইসলামদ্বয়ের পরিহিত ০২ (দুই)টি সাদা ফুলহাতা শার্ট এ ০২ (দুই)টি কালো রংয়ের ফুল প্যান্ট,০৮।একটি কালো রংয়ের পারমানেন্ট মার্কার কলম প্রাপ্ত হয়ে বিধি মোতাবেক সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলোতে ইং ১৬/০৭/২৬ তাং ভোর ০৫:৪৫ ঘটিকায় জব্দ করা হয়। তারপর ডিবির টিম ধৃত আসামিদের ও এলাকার জনসাধারণ ও চেয়ারম্যানসহ ফরিদপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের দড়িতাজপুর গ্রামস্থ প্রতারক ডলার ব্যবসায়ী মোঃ কাদের ( আসল নাম মোঃ সুকটু) পিতা- মৃত- সাহেব উদ্দিনের বসত বাড়ীর শয়ন কক্ষে উপস্থিত হলে ধৃত আসামীগন জানায় যে, প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ ইয়াছিন অনুমান দুই মাস পূর্বে তাদের বিল্ডিং এ দারোয়ান হিসেবে চাকুরী নেয়। আসামীদের সাথে দারোয়ান ইয়াছিনের সখতা গড়ে উঠিলে দারোয়ান ইয়াছিন আসামীদেরকে কম দামে বিদেশি ডলার কেনার প্রস্তাব দেয়। তারপর প্রথমবার দারোয়ান ইয়াছিন, আসামী রাকিব ও আসামী নাঈমগন প্রতারক মোঃ কাদের (সুটকু) বসত বাড়ীর শয়ন কক্ষে যায়। তারপর তারা বিছানার উপরে ছিটিয়ে ছড়ানো রাখা প্রচুর পরিমাণে ডলার দেখায়। প্রতারক সুকটু আসামীদ্বয়কে ১৬ ডলার দিয়ে পরিক্ষা করার জন্য ঢাকায় ফিরে যেতে বলে। আসামীদ্বয় ঢাকায় যেয়ে ১৬ ডলার মানি এক্সচেঞ্জ দোকানে ভাঙিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। তারপর ১নং, ২নং ও ৩নং আসামীগন ডলার গুলো প্রতারনা করার শলা পরামর্শ করে। সিআইডি পুলিশ সাজানো জন্য বিভিন্ন মালামাল বিভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করে। প্রতারক সুকটুকে মোবাইল ফোনে ডলার কেনার প্রস্তাব দিয়ে আসামীগন ইং ১৬/০৭/২৬ তাং রাত ০১:০০ ঘটিকায় প্রতারক মোঃ কাদের (সুকটু) এর বসতবাড়ি শয়ন কক্ষে উপস্থিত হলে তারা আসামীদেরকে এক ব্যাগ ভর্তি ডলার দেয়।তখন আসামীগন প্রতারনা লক্ষে পকেটে থেকে ওয়ালেস সেট বাহির করে সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডলার ভর্তি ব্যাগ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় গতিবিধি সন্দেহ হলে প্রতারক চক্রের সদস্যগন আসামীদেরকে আটক করে ডলারের ব্যাগ কেড়ে নেয়।প্রতারক চক্রের সদস্যগন ও এলাকার জনসাধারণ ভূয়া সিআইডি পুলিশদেরকে আটক করে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে রাখে। উপরোক্ত ০৩ জন আসামীগন সিআইডি পুলিশের ন্যায় পরিধেয় পোশাক ও প্রতীক ধারন করে প্রতারনা ও অসাধুভাবি অর্থ আদায় করায় আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে সাদুল্লাপুর থানার মামলা নম্বর ১৬, তারিখ- ১৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ। ধারা-১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ১৭০/১৭১/৪১৯/ ৪৪৮/৩৪ ধারা রুজু করা হয়।