টানা অষ্টম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
টানা অষ্টম রাতেও ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সামুদ্রিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়াও এ অভিযানের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর ও তাসনিম সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় হামলা হয়। পরে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন কেশম দ্বীপে দুটি পৃথক সময়ে এবং খুজেস্তান প্রদেশের শাদেগান এলাকার কাছেও হামলার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনারও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তাসনিম আরও জানায়, কুম, আরাক ও বেহবাহান এলাকায় বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। আরাকের গভর্নর বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে কোনো হামলা বা বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আল-আদিরি ক্যাম্পে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং আলি আল সালেম ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সর্বশেষ মার্কিন হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাতে প্রথম দিকে লড়াইয়ের কেন্দ্র ছিল হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে বেসামরিক অবকাঠামোও যুক্ত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বোনজি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থিত কৌশলগত কেশম দ্বীপের আরেকটি পানি শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং কার্যত তা আর বাস্তবায়ন করছে না।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে ভারতের ইরানি দূতাবাস জানায়, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইরানের বান্দার খামিরে মার্কিন হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে সোগান্দ দরদমান্দ ও ফাতেমেহ জাহরা আকবারি নামে দুই কিশোরীও ছিলেন।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, টানা আট রাতের হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সংঘাত কত দিন চলবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হবে কি না-এ প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে ইরানের জনগণ।
সূত্র: আলজাজিরা