সংবাদ শিরোনাম

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের আলটিমেটাম

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন   |   মহানগর

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, লাইসেন্স বাতিলের আলটিমেটাম

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৭ মে ঘটে যাওয়া ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে প্রশাসন। হাসপাতাল পরিচালনায় চরম অবহেলা এবং আইনি বিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালকের স্বাক্ষর করা এক জরুরি চিঠিতে এই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে হাসপাতালের মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে সশরীরে হাজির হয়ে কিংবা লিখিতভাবে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালটির নিবন্ধন ও লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে অধিদপ্তর।

ভয়াবহ এই শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর চারদিকে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে গত ১ জুন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে, মাত্র তিন কার্যদিবসের ভেতর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনার গভীরে প্রবেশ করেন। সরজমিনে তদন্তকালে কমিটি হাসপাতালের মহাপরিচালক (ডিজি), সহকারী পরিচালক (এডি), শিশু বিভাগের প্রধান, ঘটনার সময় নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, আয়া এবং সেই মুহূর্তে উপস্থিত রোগী ও তাদের অভিভাবকদের দীর্ঘ বক্তব্য রেকর্ড করেন। একই সাথে সন্তানহারা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর আকুতি ও অভিযোগও শোনেন তারা।

সব পক্ষের বক্তব্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি একটি ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায়। তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালনায় দেশের প্রচলিত ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অধ্যাদেশের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। নিয়মের চরম অবহেলা, এনআইসিইউর অব্যবস্থাপনা এবং জরুরি মুহূর্তে কর্তব্যরতদের গাফিলতির কারণেই ওই ছয়টি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরাসরি দায়ী সাব্যস্ত করেছে কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালটি মূলত উক্ত ঐতিহাসিক অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত হয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। যেহেতু সরকারি তদন্তেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, তাই ধারা মোতাবেক কেন তাদের লাইসেন্স বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে না, তার যৌক্তিক কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই বেসরকারি হাসপাতালের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আর প্রশাসনও এবার জনস্বার্থে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement