খুলনায় বাঁধ কেটে ইটভাটা, ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে প্রশাসন
খুলনা ব্যুরো :
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এক ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৬ মার্চ অভিযুক্ত ভাটা মালিক আজিজুর মোড়লকে নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে মেসার্স আল্লারদান ব্রিকস (এডিবি) নামের একটি ইটভাটার কাঁচা ইট তৈরির কারখানায় যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় যুগ আগে ভদ্রা নদীর চর দখল করে খলসি গ্রামের আজিজুর মোড়ল ইটভাটাটি স্থাপন করেন। শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভাটাটি পরিচালিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফসলি জমির পাশে ভাটা স্থাপনের কারণে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গত ১৫ মার্চ একটি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরদিন ডুমুরিয়ার টিয়াবুনিয়ায় খাল খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
শুধু আল্লারদান ব্রিকসই নয়, শৈলমারী নদীর চর দখল করে ‘এসবি ব্রিকস’, ‘এনকে ব্রিকস’ ও ‘সেতু ব্রিকস’ নামের আরও কয়েকটি ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবক গাজী সাইকুল ইসলাম বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবেশ ও কৃষি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ডুমুরিয়া এলাকায় পরিবেশ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।