রাজধানীতে ‘কসাইয়ের রেট’ নিয়ে মধ্যবিত্তদের ভোগান্তি

 প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন   |   ঢাকা

রাজধানীতে ‘কসাইয়ের রেট’ নিয়ে মধ্যবিত্তদের ভোগান্তি

মোহাম্মদ আর্শাদ হোসেন

রাজধানীতে কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার খরচ নিয়ে এবারও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। এলাকা ও কসাইভেদে ভিন্ন ভিন্ন রেট নির্ধারণ করায় ক্ষোভ বাড়ছে কোরবানিদাতাদের মধ্যে। কেউ নিচ্ছেন পশুর মূল্যের প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা, আবার কোথাও এই রেট গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কোরবানির খরচ বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রাজধানীর বাড্ডা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গুলশান ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কসাইদের সঙ্গে আগাম চুক্তি করছেন কোরবানিদাতারা। তবে নির্ধারিত কোনো মূল্য তালিকা না থাকায় একই ধরনের গরু কাটার জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন খরচ গুনতে হচ্ছে। দেড় লাখ টাকার একটি গরু কাটতে কোথাও ২২ হাজার টাকা, কোথাও আবার ৩০ হাজার টাকার বেশি দাবি করা হচ্ছে। 

কোরবানিদাতাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে পশুর হাটে হাসিলের হার নির্ধারিত থাকলেও কসাইদের পারিশ্রমিক নির্ধারণে কোনো নীতিমালা নেই। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক কসাই অতিরিক্ত দর হাঁকাচ্ছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গ্রামের কসাই এনে কাজ করানোর চেষ্টা করছেন, কারণ রাজধানীর পেশাদার কসাইদের রেট তুলনামূলক অনেক বেশি। 

অন্যদিকে কসাইদের দাবি, সারা বছর তাদের কাজ নিয়মিত থাকে না। কোরবানির ঈদই তাদের প্রধান আয়ের সময়। এছাড়া শ্রমিক খরচ, যাতায়াত ও সহকারী নিয়োগের কারণেও পারিশ্রমিক বেশি রাখতে হয়। অনেক কসাই জানান, ঈদের সময় তারা কয়েকজন সহকারী নিয়ে দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং আয় থেকে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও দিতে হয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে প্রতিবছর লাখো পশু কোরবানি হয়। তাই সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে কসাইদের জন্য একটি যৌক্তিক মূল্য তালিকা নির্ধারণ করতে পারে। এতে একদিকে যেমন কোরবানিদাতারা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে কসাইদের মধ্যেও থাকবে স্বচ্ছতা ও সমতা।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, কোরবানির বাজার ও হাসিল ব্যবস্থাপনার মতো কসাইদের রেটও একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা হোক। তাহলে প্রতি বছর ঈদ এলেই “কসাইয়ের রেট” নিয়ে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement