নেইমারের নৈপুণ্যে করিনচাসকে হারাল সান্তোস নিও কিমিকা অ্যারেনায় বড় জয় পেল পেইশে

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন   |   খেলাধুলা

নেইমারের নৈপুণ্যে করিনচাসকে হারাল সান্তোস    নিও কিমিকা অ্যারেনায় বড় জয় পেল পেইশে

শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল)

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের উত্তাপ ছড়ানো ক্লাসিকোতে নেইমারের নৈপুণ্যে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে সান্তোস। রোববার (৩০ আগস্ট) ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ২৫তম রাউন্ডের ম্যাচে করিনচাসকে তাদের নিজেদের মাঠ নিও কিমিকা অ্যারেনায় ১–০ গোলে হারিয়েছে পেইশে।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছে প্রথমার্ধের ৩৩তম মিনিটে। গোলদাতা উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান অলিভা। তবে গোলটির পুরো সূচনা ছিল সান্তোসের তারকা নেইমারের পা থেকে।

প্রথমার্ধে করিনচাসের ডিফেন্সের ওপর চাপ তৈরি করে ফ্রি-কিক পায় সান্তোস। বলের সামনে দাঁড়ান নেইমার। ব্রাজিলিয়ান তারকার নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি গোলমুখে যায়। করিনচাসের গোলরক্ষক হুগো সুজা বলটিতে হাত লাগিয়ে দেন। এরপর বল পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। আর সেই ফিরতি বলের অপেক্ষায় থাকা অলিভা গোলমুখে বল জড়িয়ে দেন। ৩৩ মিনিটে সান্তোস এগিয়ে যায় ১–০ গোলে। 

গোলটি নেইমারের নামে অ্যাসিস্ট হিসেবে গণ্য করার চেয়ে বলা যায়, নেইমারের ফ্রি-কিক থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি হয় এবং তার শটের ফিরতি বল থেকেই অলিভা গোল করেন। এটি ছিল সান্তোসের হয়ে অলিভার প্রথম গোল।

গোলের পর ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে করিনচাস। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক দল আক্রমণের চাপ বাড়ায়। বলের দখলও নিজেদের দিকে রাখার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু সান্তোসের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। গোলরক্ষক গ্যাব্রিয়েল ব্রাজাও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে দলকে নিরাপদ রাখেন। শেষ পর্যন্ত করিনচাসের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সান্তোস। 

এই ম্যাচে নেইমার ও করিনচাসের ডাচ তারকা মেমফিস ডিপাইয়ের দ্বৈরথও ছিল দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। নেইমার পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং সান্তোসের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে করিনচাসের হয়ে শুরু থেকে মাঠে থাকা মেমফিস খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। করিনচাস পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। 


নেইমারকে ম্যাচে একটি বিশেষ হেডব্যান্ড পরেও দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, সেটি মেমফিসের দেওয়া উপহার। দুই খেলোয়াড় মাঠে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের বাইরে তাদের বন্ধুত্ব রয়েছে বলেও জানান নেইমার। 

সান্তোসের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার বিষয় নয়, বরং চলতি মৌসুমে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও। ২০২৬ মৌসুমে এর আগে সাও পাওলোর বড় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সাতটি ক্লাসিকো খেলেও জয়ের দেখা পায়নি সান্তোস—ছিল চারটি ড্র ও তিনটি হার। এবার করিনচাসকে হারিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল পেইশে। 

নিও কিমিকা অ্যারেনায় এই জয়ের ফলে সান্তোসের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯। দলটি ১৪তম অবস্থানে রয়েছে এবং রেলিগেশন জোন থেকে চার পয়েন্ট ওপরে উঠে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। অন্যদিকে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে ১০ম স্থানে থাকা করিনচাস ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয় হারের মুখে পড়েছে। 

৪৭ হাজার ৪৯৬ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তাই শেষ হাসি সান্তোসের। নেইমারের ফ্রি-কিক, অলিভার গোল এবং পেইশের দৃঢ় রক্ষণ—এই তিনের সমন্বয়েই ইতাকেরায় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল সান্তোস