ডেঙ্গু ঠেকাতে লার্ভার উৎস ধ্বংস ও ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

 প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ডেঙ্গু ঠেকাতে লার্ভার উৎস ধ্বংস ও ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

ঢাকা, ৩০ আগস্ট:

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করছে সরকার।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের জরুরি সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো মশক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে শুধু ওষুধ প্রয়োগ নয়, যেখানে মশার লার্ভা জন্ম নেয় সেসব জায়গা চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় গবেষণা ও পর্যালোচনা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনসচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনাশক ওষুধ প্রয়োগ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পড়ে থাকা টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন। ঢাকার বাইরে থাকা ১১টি সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।