ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা সভা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে প্রচার জোরদারের তাগিদ

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা সভা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে প্রচার জোরদারের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তথ্য অধিদফতর ও মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মোঃ শাহ আলম।

তামাকের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরলেন অতিরিক্ত সচিব

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শাহ আলম বলেন, তামাক ও সিগারেট খাত থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও ধূমপানের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসাজনিত নানা ব্যয়।

তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

নাটক, চলচ্চিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধূমপানের প্রচারণার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে সরকার। শিগগিরই নীতিমালাটি চূড়ান্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তামাকের ব্যবহার কমাতে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান অতিরিক্ত সচিব।

দেশব্যাপী প্রচার চালানোর কথা তথ্য অধিদফতরের

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান ও তামাকবিরোধী আন্দোলন চলছে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত তথ্য কর্মকর্তারা ধূমপানবিরোধী প্রচার কার্যক্রম জোরদার করবেন। পাশাপাশি জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে তামাকবিরোধী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বছরে দুই লাখ মৃত্যুর দাবি

সভায় মুখ্য আলোচক ও মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরুপরতন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে মারা যান। প্রায় ১২ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় এক লাখ মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। মুখের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।

নাটক-সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য নিয়েও উদ্বেগ

অরুপরতন চৌধুরী অভিযোগ করেন, আইন না মেনেই নাটক, সিনেমা ও ওটিটি কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উপস্থাপনা তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও মাদকের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সৃজনশীলতা বা শিল্পের স্বার্থে ধূমপানের দৃশ্য দেখানোর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি চলচ্চিত্রের ছাড়পত্র দেওয়ার সময় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানান।

আইনের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন

আলোচনা সভায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংগঠন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন।

সভায় তথ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের ম্যানেজার (তামাক নিয়ন্ত্রণ) ফাহমিদা ইসলাম, প্রত্যাশার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিইআর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীবসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

সভায় তথ্য অধিদফতরের ৪০-এর বেশি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।