শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ৩০ আগস্ট:
শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং শিক্ষা-শিল্পের সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘Strategic Partnership between Bangladesh and China in the Education Sector’ শীর্ষক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশ নেন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত চীন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সফরটিকে সফল ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়। এর আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ, গবেষণা কার্যক্রম, শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন সফরে তিনটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো—চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার এবং বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।
বৈঠকে বলা হয়, এসব উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা, শিল্পের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে উদ্যোগগুলো ভূমিকা রাখবে।
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চীন সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশটির শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ প্রত্যক্ষ করেছেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির দেওয়া বৃত্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, চীন থেকে ভাষা শিক্ষকরা বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা ছিল। সেটি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সহজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।