চর ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক ভাতা চালু করা হবে--- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা

 প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চর ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক ভাতা চালু করা হবে--- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রংপুর, ৩০ আগস্ট:

চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শনিবার রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনা করে ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। দেশের বিভিন্ন জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে এই সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে অঞ্চলভেদে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতেও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম ভাতা চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকা প্রকৃত অর্থে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দুর্গম অঞ্চল চিহ্নিত করা হবে। মাঠপর্যায়ের মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জবাবদিহিতা পরিষ্কার থাকতে হবে। শুধু পদক্রম থাকলেই কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত হয় না; প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিভাগ থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের একটি স্তরের কার্যক্রম যেন অন্য স্তরের কাজের প্রতিবন্ধক না হয়।

প্রাথমিক শিক্ষায় হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। খেলাধুলা ও ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সৃজনশীল কাজে শিশুদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আনন্দময় ও শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে।

বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।