উত্তর কোরিয়া প্রতিবেদন ঘিরে সাংবাদিককে ট্রাম্প প্রশাসনের সমন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন সামরিক অভিযানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমন জারির তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির দাবি, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ম্যাথিউ কোলকে তথ্যসূত্র প্রকাশে বাধ্য করার লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে কোলের বাসায় সমন পৌঁছে দিতে যান। তিনি বাসায় না থাকায় পরে তা তাঁর আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদক ডেভ ফিলিপসের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন কোল। সেখানে ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার উপকূলে মার্কিন নেভি সিল সদস্যদের একটি গোপন অভিযানের বিবরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগাযোগে আড়ি পাতার জন্য একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবে নেভি সিল সদস্যদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার একটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর অভিযানটি ব্যর্থ হয়।
এই মামলায় ম্যাথিউ কোলের আইনি সহায়তা দিচ্ছে নিউইয়র্ক টাইমস। তাঁর আইনজীবী ডেভিড এ. ও’নিল বলেছেন, কোল তাঁর তথ্যসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করবেন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র চার্লি স্ট্যাডল্যান্ডার বলেন, তথ্যসূত্র প্রকাশে বাধ্য করার এই সমন সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর বাড়তে থাকা চাপেরই অংশ। তাঁর অভিযোগ, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরেও নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিককে সমন পাঠিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে সেই সমন প্রত্যাহার করা হয়। মার্চে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সমন জারি করা হয়েছিল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনের সতর্কবার্তার তথ্যসূত্র জানতে চাওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, ফৌজদারি তদন্তে সমন জারি সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার কথা, বিশেষ করে যখন সাংবিধানিক অধিকার জড়িত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে বিস্তৃত সুরক্ষা দেয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমনের ব্যবহার বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাডিলা ও অ্যাডাম শিফ বিচার বিভাগের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। অন্যদিকে, কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর ভীতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনেই এসব ক্ষেত্রে সমন জারি করা হচ্ছে।