সংবাদ শিরোনাম

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ ইতিহাসের সত্য তুলে ধরবে: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ ইতিহাসের সত্য তুলে ধরবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কেবল একটি স্থাপনা হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, মানুষের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন শাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে বিগত শাসনামলের ফ্যাসিবাদী চরিত্রও উন্মোচিত হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই জাদুঘর দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার স্মারক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে তুলে ধরবে। তবে এটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের একক বয়ান প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এটি গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের দিন। এই দিনে গণমানুষের অভূতপূর্ব প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বিগত দেড় দশকের শাসনামলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে গুম, হত্যা ও অপহরণের মতো ঘটনাগুলো ক্রমেই ভয়াবহ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতাকে সংকুচিত করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ওই সময়ের নৃশংসতার ইতিহাস স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করার মতোই ভয়াবহ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সংসদীয় কমিটি কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোনো শক্তির তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রেখেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি মহল নানা অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সামনে এনে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করছে কি না, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement