সংবাদ শিরোনাম

৫ আগস্ট মুক্তির আনন্দ ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

৫ আগস্ট মুক্তির আনন্দ ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

৫ আগস্টকে স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য আনন্দ, বিজয় এবং রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়।

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বার্তায় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর মতে, ৫ আগস্ট সেই দুঃশাসনের অবসানের দ্বিতীয় বার্ষিকী।

বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে গোপন বন্দিশালা হিসেবে ‘আয়নাঘর’-এর মতো স্থাপনা ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয় এবং শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শাসক দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই আন্দোলনে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও জনগণের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেছিল, আর ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মতো ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগও জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই পারস্পরিক শত্রুতায় পরিণত না হয়। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ কিংবা উগ্রবাদের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে, যেখানে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement