সংবাদ শিরোনাম

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার দর্শন। সুস্পষ্ট দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত না হলে মানুষ প্রকৃত অর্থে মানবতা ও সভ্যতার চর্চাকে পূর্ণতা দিতে পারে না।

শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ যখন জীবনধারণের মৌলিক সংগ্রামের বাইরে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছে, তখন থেকেই তার মধ্যে ‘আমি কোথা থেকে এসেছি’ এবং ‘কোথায় যাব’—এই মৌলিক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। সেই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় দর্শনের বিকাশ ঘটে এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধর্ম দর্শনচর্চার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই মানবকল্যাণের শিক্ষা রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতধারার কারণে দার্শনিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্মে যেমন বিভিন্ন দর্শনের বিকাশ ঘটেছে, তেমনি ইসলামেও রয়েছে নানা চিন্তাধারা ও ব্যাখ্যা। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, মানবসভ্যতায় দর্শনের চর্চা একটি চলমান ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে মানবতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ প্রয়োজন। পৃথিবীর যেকোনো সংকটের সমাধান অনেকাংশেই নির্ভর করে সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। মানবিক দর্শনে বিশ্বাসী ব্যক্তি বা সমাজ সংকটের গঠনমূলক সমাধান খোঁজে, আর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বিভাজন ও সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে।

তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান শান্তি সংকট নিরসনে চিন্তাশীল মানুষদের একটি অভিন্ন দার্শনিক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement