বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে টেকসই উৎপাদনে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে টেকসই উৎপাদনে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৮ জুন: বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে টেকসই এবং উদ্ভাবনভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা অর্জনের জন্য শুধু পণ্যের মান নয়, উৎপাদন প্রক্রিয়ার নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ জুন) পালনীয় দিবসকে সামনে রেখে সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং গুণগত মানের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (IAF) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (ILAC) যৌথভাবে প্রতি বছর ৯ জুন দিবসটি পালন করে থাকে।

বাণীতে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এ তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এ বাস্তবতায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে তিনি অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভোক্তাদের প্রত্যাশা ও সচেতনতা বহুগুণ বেড়েছে। তারা পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশবান্ধবতা বিবেচনায় নিচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান সুদৃঢ় করতে শিল্পখাতকে আধুনিক, উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মান যাচাই ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য ও সেবার গুণগত মান মূল্যায়ন করা হয়। এটি কেবল একটি সনদ নয়; বরং দেশের শিল্প ও সেবা খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার কার্যকর মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড এ পর্যন্ত ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে পাঁচটি পৃথক ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবননির্ভর ও টেকসই উন্নয়নের যাত্রাকে নতুন গতি দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement
Advertisement
Advertisement