৭ দিনের আল্টিমেটাম: হাদি হত্যা বিচারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না এলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে গতকাল জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকারের কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানায় সংগঠনটি। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—এই সময়সীমার মধ্যে কোনো ঘোষণা না এলে আগামী শুক্রবার থেকে শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে।
মিছিলটি টিএসসি এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আগে আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সে সময় গোয়েন্দা বাহিনী জানিয়েছিল কর্মসূচিতে নাকি বোমা হামলা হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যত হামলাই হোক না কেন, বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না হলে আমরা শাহবাগ ছেড়ে যাব না।”
তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারত ও বাংলাদেশের যোগসূত্র রয়েছে। ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের বাংলাদেশি এজেন্টরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ফলে এটি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির অগ্রগতি সম্পর্কে সরকার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। “সরকার জাতিসংঘের তদন্তে সম্মত নাকি নিজেরাই বাধা তৈরি করছে, তা আমরা সরকারের কাছ থেকেই শুনতে চাই,” তিনি বলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকার বিচারের নামে সময়ক্ষেপণ করছে। “আজ জিজ্ঞেস করলে বলবে আসামি ভারত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে, ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এক মাস পরে জিজ্ঞেস করলেও একই উত্তর—প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া কেয়ামত পর্যন্ত চলবে কিনা, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাই,” বলেন আবদুল্লাহ আল জাবের।
সংগঠনটির নেতারা জানান, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে যারা টালবাহানা করবে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদি হত্যাকাণ্ড এখন কেবল একটি অপরাধের বিচার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে।