ঢাকা, ৬ জুন ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক): দেশের দুই বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসি আরও সংক্ষিপ্ত, কার্যকর এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা যৌক্তিকীকরণ, পরীক্ষার সময়কাল হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা ও ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, পরীক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সময়োপযোগী সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে।
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং ফল প্রকাশ ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কার্যক্রমেও বিলম্ব দেখা দেয়।
এনসিটিবির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার সময়সীমা কমিয়ে শিক্ষাবর্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক পরীক্ষার কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এ লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী একটি জাতীয় কর্মশালার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ প্রায় ৯০ জন অংশীজন অংশ নেবেন।
কর্মশালায় এসএসসি ও এইচএসসির বিদ্যমান বিষয় কাঠামো পর্যালোচনা, বিষয় একীভূতকরণের সম্ভাবনা, পরীক্ষার দিনসংখ্যা কমানোর কৌশল, ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ভারসাম্য নির্ধারণ, ব্যবহারিক পরীক্ষার আধুনিকায়ন এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত বিষয় সংখ্যা ও মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলে রয়েছেন শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমেদ, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ দেশের খ্যাতিমান শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালার ছয়টি পৃথক দল বিষয় একীভূতকরণ, সামষ্টিক পরীক্ষার যৌক্তিক পরিধি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সমন্বয় এবং ব্যবহারিক মূল্যায়ন সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করবে।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, বিষয় সংখ্যা ও পরীক্ষার কর্মদিবস কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানিয়েছেন, বর্তমানে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরীক্ষা সংস্কার বিষয়ে তাৎক্ষণিক নতুন কোনো অগ্রগতি না থাকলেও প্রস্তাবিত রূপরেখা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস পাবে এবং শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।
ঢাকা, ৬ জুন ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক): দেশের দুই বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসি আরও সংক্ষিপ্ত, কার্যকর এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা যৌক্তিকীকরণ, পরীক্ষার সময়কাল হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা ও ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, পরীক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সময়োপযোগী সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে।
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং ফল প্রকাশ ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কার্যক্রমেও বিলম্ব দেখা দেয়।
এনসিটিবির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার সময়সীমা কমিয়ে শিক্ষাবর্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক পরীক্ষার কাঠামোকে আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এ লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী একটি জাতীয় কর্মশালার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ প্রায় ৯০ জন অংশীজন অংশ নেবেন।
কর্মশালায় এসএসসি ও এইচএসসির বিদ্যমান বিষয় কাঠামো পর্যালোচনা, বিষয় একীভূতকরণের সম্ভাবনা, পরীক্ষার দিনসংখ্যা কমানোর কৌশল, ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ভারসাম্য নির্ধারণ, ব্যবহারিক পরীক্ষার আধুনিকায়ন এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত বিষয় সংখ্যা ও মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলে রয়েছেন শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমেদ, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ দেশের খ্যাতিমান শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালার ছয়টি পৃথক দল বিষয় একীভূতকরণ, সামষ্টিক পরীক্ষার যৌক্তিক পরিধি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সমন্বয় এবং ব্যবহারিক মূল্যায়ন সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করবে।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, বিষয় সংখ্যা ও পরীক্ষার কর্মদিবস কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানিয়েছেন, বর্তমানে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরীক্ষা সংস্কার বিষয়ে তাৎক্ষণিক নতুন কোনো অগ্রগতি না থাকলেও প্রস্তাবিত রূপরেখা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস পাবে এবং শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।