রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ (Silent Zone) ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হয়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান-২ গোলচত্বরে আয়োজিত শব্দ দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বিমানবন্দর এলাকার পাশাপাশি গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা এলাকাকেও নীরব অঞ্চল হিসেবে কার্যকর রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ঘোষিত নীরব এলাকায় শব্দ দূষণ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গঠনে সংশ্লিষ্ট সোসাইটি, নাগরিক সমাজ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শব্দ ও বায়ুদূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর ফলাফল দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গণমাধ্যমে প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর আওতায় ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা এলাকার বিভিন্ন সোসাইটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যৌথভাবে এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement