সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো সংস্কারে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো সংস্কারে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক।

এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তিনি মনে করেন, একটি স্পষ্ট সরকারি অবস্থান কর্মচারীদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এটি ধাপে ধাপে নয়, এককালীনভাবে কার্যকর করা হলে সরকারি কর্মচারীরা অধিক উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে বাজারে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ গ্রহণের প্রবণতাও কমবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হলে কর্মচারীদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা ও কর্মোদ্যম আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাসমূহ কয়েকটি ধাপে কার্যকর করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা এবং পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে অবশিষ্ট অংশ ও অন্যান্য ভাতা-সুবিধা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।

নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন স্তরে পেনশন বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, নতুন বেতন কাঠামো ও পেনশন সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement