সেবার মান ফেরাতে মরিয়া প্রশাসন: এবার ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলে বিভাগীয় কমিশনারের ঝটিকা অভিযান
অনলাইন ডেস্ক:
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুততম সময়ে এবং হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজের কলমে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বর্তমান প্রশাসন। মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব চিত্র দেখতে ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে তিনি বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। কোনো পূর্বঘোষণা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাঁর এই আকস্মিক আগমন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি করে, তেমনি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে জাগিয়ে তোলে এক নতুন স্বস্তি।
বৃহস্পতিবার সকালে আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই শুরু হয়েছিল ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন নিজ নিজ ডেস্কে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কোনো প্রটোকল বা আগাম বার্তা ছাড়া দপ্তরে এসে উপস্থিত হন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি সার্কেলের বিভিন্ন শাখায় আকস্মিক পরিদর্শনে যান এবং প্রতিটি শাখার দৈনন্দিন কাজের প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নামজারি, খতিয়ান প্রস্তুত এবং ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ফাইলগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সরাসরি খোঁজ নেন। অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা এবং লাল ফিতার দূরত্বের কারণগুলোও তিনি খতিয়ে দেখেন।
উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণত দাপ্তরিক কক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়, তবে এই পরিদর্শনে দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কার্যালয়ের বারান্দা ও কাউন্টারগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি, অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে সরাসরি বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনেন। নাগরিকরা অবলীলায় তাঁদের প্রতিদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন এবং বিভাগীয় কমিশনারও অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের অভিযোগ ও পরামর্শগুলো নোট করেন।
পরিদর্শনের দ্বিতীয়ভাগে বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্র, ঝুলে থাকা ফাইলের বিবরণী এবং পূর্ববর্তী সেবা প্রদানের রেকর্ডসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। এ সময় কিছু ক্ষেত্রে কাজের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা তাঁর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেবার মান আরও উন্নত, গতিশীল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। কোনো ফাইল যেন যৌক্তিক কারণ ছাড়া দীর্ঘ সময় আটকে না থাকে এবং প্রতিটি সেবার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা যেন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুততম সময়ে এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত উপায়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। কোনো দপ্তরে সাধারণ মানুষকে অযথা ঘোরানো বা হয়রানি করা হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি ও ধীরগতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং ঝটিকা পরিদর্শনের ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এই ঝটিকা অভিযানের পর ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে, যা আগামীতে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।