স্মৃতির ক্যানভাসে হুমায়ূন আহমেদ: শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বসছে নুহাশসহ গুণীজনদের মেলা

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

স্মৃতির ক্যানভাসে হুমায়ূন আহমেদ: শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বসছে নুহাশসহ গুণীজনদের মেলা

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলা কথাসাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতের একচ্ছত্র জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও বাঙালির আবেগ, আনন্দ আর অশ্রুর সাথে জড়িয়ে আছে গভীর নকশায়। নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতার কালজয়ী শিল্পদর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে আজ এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই বিশেষ আয়োজনটি শুধু একটি স্মরণ সভা নয়, বরং হুমায়ূন-সৃষ্টির এক মহাসম্মিলনে রূপ নিতে যাচ্ছে। যেখানে বাবার উত্তরাধিকার কাঁধে নিয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র, তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন মুখরিত হয়ে উঠবে হুমায়ূন-ভক্তদের পদচারণায়। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বিকেল ৪টায় পর্দা উঠবে এই আয়োজনের। উৎসবের সূচনাটা হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’-এর বিশেষ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। গ্রামীণ পটভূমি, লোকজ গান আর মানবিক সম্পর্কের যে টানাপোড়েন হুমায়ূন আহমেদ সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা বড় পর্দায় দেখার জন্য চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে একটি তাত্ত্বিক ও তাত্ত্বিক মননশীল সেমিনার। ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ: নির্মাণশৈলী ও শিল্পদর্শন’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূলত হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র বানানোর নিজস্ব ব্যাকরণ ও তাঁর ভিজ্যুয়াল ভাষা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র গবেষক ও সমালোচক ড. শাহাদাৎ রুমন। তাঁর উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর মুখ্য আলোচক হিসেবে গভীর আলোকপাত করবেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক ড. মতিন রহমান। হুমায়ূন আহমেদের সিনেমার মূল শক্তি কোথায় ছিল এবং কীভাবে তিনি মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষকে সিনেমা হলের দিকে টেনে এনেছিলেন, সেই রহস্যের জট খুলবেন এই দুই গুণীজন।

সেমিনারের আলোচনা পর্বে বিশেষ মাত্রা যোগ করবেন নুহাশ হুমায়ূন। একজন তরুণ নির্মাতা হিসেবে তিনি তাঁর বাবার চলচ্চিত্র ভাবনাকে কীভাবে দেখেন এবং বাবার কাজের কোন দিকগুলো তাঁকে অনুপ্রাণিত করে—সেসব ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তিনি ভাগ করে নেবেন দর্শকদের সাথে। এছাড়া সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমানও আলোচনায় অংশ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাংস্কৃতিক অবদান রক্ষায় সরকারের ভাবনার কথা তুলে ধরবেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

আলোচনা আর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পর রাত ৮টায় মিলনায়তনের পর্দা মেতে উঠবে অন্য এক আবহে। এ পর্যায়ে প্রদর্শিত হবে হুমায়ূন আহমেদের ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী মাস্টারপিস ‘ঘেটুপুত্র কমলা’। হাওর অঞ্চলের একটি বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি ও তার পেছনের নির্মম বাস্তবতার এই করুণ আখ্যান দর্শকদের আবারও আবেগাপ্লুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেমার পাশাপাশি এই আয়োজনে বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে হুমায়ূন আহমেদের নিজের লেখা জনপ্রিয় গানগুলোর পরিবেশনা। দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তাঁর কালজয়ী গানগুলো মঞ্চে গেয়ে শোনাবেন, যা অনুষ্ঠানটিকে দেবে এক নান্দনিক পূর্ণতা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য লিখেছেন ও সিনেমা বানিয়েছেন, তাই তাঁর স্মরণের এই পুরো আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাংলা সংস্কৃতির এই মহীরুহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ নাট্যশালা মিলনায়তনে নামবে হুমায়ূন অনুসারীদের ঢল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement