ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান


অনলাইন ডেস্ক:

​এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার এই সফরকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কূটনীতিবিদরা।

​বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসা এই শীর্ষ কূটনীতিককে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিমানবন্দরে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলাপে তারা পারস্পরিক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন।

​তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হাকান ফিদান বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নাম। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি টানা এক দশক তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এমআইটি) প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তার এই ঢাকা সফর কেবল রুটিনমাফিক কোনো সফর নয়, বরং এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

​সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির এই সফরে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানসহ সরকারের নীতি নির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক-পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ঐক্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

​হাকান ফিদানের এই সফরের আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট সরাসরি দেখতে এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি সেখানে যাবেন। শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পাশে থেকে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখতে এবং পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আঙ্কারার প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এর আগে গত এপ্রিল মাসেই হাকান ফিদানের বিশেষ আমন্ত্রণে তুরস্ক সফর করেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেই সফরের পর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পাল্টা ঢাকা সফর প্রমাণ করে যে, আঙ্কারা ও ঢাকার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে এবং দুই মুসলিম ব্রাতৃপ্রতিম দেশের বন্ধুত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement