রাজশাহীতে শ্রদ্ধায় ও প্রত্যয়ে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

 প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

রাজশাহীতে শ্রদ্ধায় ও প্রত্যয়ে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা আর সুদৃঢ় রাজনৈতিক প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দিনভর নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এদিন সকাল থেকেই মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। শোকের আবহ তৈরি করতে কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার পাশাপাশি উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সকল নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রয়াত নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলঙ্কৃত করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ ছাড়া রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ইশাও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, মুক্তার হোসেন, জয়নাল আবেদীন শিবলিসহ বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুমাত্রিক রাজনৈতিক আদর্শ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠন এবং আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অনন্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও উৎপাদনমুখী রাজনীতি দেশকে এক কঠিন সময়ে আলোর পথ দেখিয়েছিল। আলোচনা সভা শেষে এক আবেগঘন পরিবেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। একই সাথে তাঁর সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের চোখে অশ্রু দেখা যায় এবং পুরো এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের রেখে যাওয়া কালজয়ী আদর্শকে বুকে ধারণ করেই বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের চলমান সংকটে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বক্তারা। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের কর্মীরা একযোগে শপথ নেন যে, একটি সমৃদ্ধ, উন্নত, মানবিক ও গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তাঁরা তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। স্মরণসভা শেষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement