সংবাদ শিরোনাম

ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকের আগে এআই নিরাপত্তায় বড় প্রস্তাব

 প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকের আগে এআই নিরাপত্তায় বড় প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে তথ্য বিনিময়ের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকের আগে রোববার প্রায় আট ঘণ্টার আলোচনা শেষে এ প্রস্তাব সামনে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৈঠকটিকে ‘খুবই সফল’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্কে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক লি ছেংগাংও অংশ নেন।

বেসেন্ট বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত যেকোনো কর্মকাণ্ডের মতো বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যেও আরও স্বচ্ছতা দরকার। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বের এক নম্বর ও দুই নম্বর এআই শক্তির মধ্যে অস্বচ্ছতা থেকে আরও স্বচ্ছতার দিকে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এমন একটি নোটিফিকেশন বা সতর্কবার্তা দেওয়ার পদ্ধতি রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে কোনো এআই-সংক্রান্ত ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করলে দুই দেশ পরস্পরকে তা জানাতে পারে। বেসেন্ট বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘অভিন্ন লক্ষ্য ও অভিন্ন হুমকি’ নিয়ে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে উন্নত এআই চিপ এবং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নেই বলে জানিয়েছেন গ্রিয়ার।

ব্লুমবার্গের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক লি ছেংগাং বলেছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ভালো। এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ সোমবারও বৈঠক করবে বলে জানান তিনি।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘খোলামেলা, গভীর ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ও সেই আলোচনার অংশ ছিল।

এ ছাড়া গত মে মাসে দুই দেশ যে প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ওই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো কৌশলগত নয়-এমন পণ্য চিহ্নিত করা, যেগুলো কম শুল্কে আমদানির সুযোগ পেতে পারে। গ্রিয়ার জানিয়েছেন, চীন থেকে আসতে পারে ভোক্তা পণ্যসহ অন্যান্য কম প্রযুক্তিনির্ভর সামগ্রী। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে যেতে পারে জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।

ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই নিউইয়র্কের এই আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠক শেষে এআই-সংক্রান্ত প্রস্তাব ছাড়া আর কোনো বড় ধরনের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দুই দেশের আলোচনার সময়সীমাও বেশ সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রায় ২০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। এর আগে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সংঘাত একপর্যায়ে শুল্কহার তিন অঙ্কে পৌঁছে দিয়েছিল।

এর পাশাপাশি বিরল মাটির চুম্বকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়েও চীনের ওপর চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। এসব উপাদান গাড়ি থেকে শুরু করে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর তৈরির মতো বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

রোববারের বৈঠকের পর বেসেন্ট ও গ্রিয়ার ওই বিরল খনিজ ও চুম্বক সরবরাহের বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতির কথা জানাননি।

সূত্র: আলজাজিরা