কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কানাডার সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার মতো ক্ষেত্রেও অটোয়ার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ২৭ দেশের জোটটি।
পলিটিকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। ইইউ ও কানাডার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা যখন নতুন গতি পেয়েছে, তখনই তাঁর এই মন্তব্য এল।
গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেন। তাঁর এই প্রস্তাব ইউরোপের অনেক সরকারকেই বিস্মিত করেছে। কারণ, ‘সহযোগী সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে এবং এর আওতা কতটা হবে, তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাঁর দেশের নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত মাসে কানাডার পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর হুমকিও তিনি একাধিকবার দিয়েছেন।
কস্তা বলেন, কানাডার সঙ্গে ‘যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইইউ। ‘সহযোগী সদস্যপদ’ বলতে কী বোঝায়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল বিষয় হলো কানাডার সঙ্গে আরও বেশি কাজ করা এবং যতটা সম্ভব একসঙ্গে এগিয়ে চলা।
তবে এর পথে একটি ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন কস্তা। তিনি বলেন, সমস্যাটা শুধু এই যে কানাডা ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের দেশ নয়। ফলে দেশটি ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে না।
ইইউ ও কানাডা ২০১৬ সালে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি সই করেছিল। চুক্তিটি ‘সিইটিএ’ (CETA) নামে পরিচিত। পরের বছর এটি কার্যকর হয়। তবে ইইউর ১০টি দেশ এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। অনুমোদন না দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়ামও রয়েছে।
কস্তার মতে, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যের বাইরেও অনেক বেশি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষ কাজ করতে পারে। এ ছাড়া এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা সম্ভব।
গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বিষয়েও কানাডার সঙ্গে একযোগে কাজ করার কথা বলেন কস্তা। তাঁর ভাষায়, দুই পক্ষের মূল্যবোধের মিল রয়েছে এবং তারা পরস্পরের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
কানাডার সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা ঠিক করার ক্ষেত্রে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন কস্তা।
সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার আরেকটি ইঙ্গিতও মিলেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে সোমবার নিউইয়র্কে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বা বহুপাক্ষিকতাবিষয়ক একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজকের ভূমিকা পালন করবেন কস্তা।