অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বড় বাধা কোথায়
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় বাজেটের ওপর চাপ-এই দুই বাস্তবতায় অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা। কিন্তু রাজ্যভেদে আলাদা নিয়ম, দুর্বল বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে ধীরগতি সেই পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রোডাক্টিভিটি কমিশনের চেয়ার ড্যানিয়েল উড মনে করেন, উৎপাদনশীলতাকে আবার মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু অর্থনীতিবিদদের হিসাব-নিকাশ নয়; মানুষের আয়, বাড়ির দাম, কাজের ধরন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম ‘ইন্টারজেনারেশনাল রিপোর্ট’ প্রকাশের পর দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে সরকারি ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার বাড়ানো এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে এ বিষয়ে সরকারের জন্য দেওয়া পরামর্শ সব সময় রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক হচ্ছে না। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার রজার কুক সম্প্রতি বিক্রয়করকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে প্রোডাক্টিভিটি কমিশনের একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করছেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে দেশটির ট্রেজারির ধারণা-বছরে ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি-হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী। অন্যদিকে ট্রেজারি মনে করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের গতি আনতে পারে।
পলিটিকোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ড্যানিয়েল উড এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি দৈর্ঘ্য ও স্পষ্টতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে।
ধীর উৎপাদনশীলতার খেসারত কতটা?
উড বলেন, প্রায় এক দশক ধরে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে স্থবিরতার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় প্রকৃত মজুরি ও আয় বৃদ্ধির গতি অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব এখন মানুষের জীবনযাত্রার মানেও দেখা যাচ্ছে। এমনকি এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মের জীবন আগের চেয়ে ভালো হবে-এই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।
১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া শেষ দিকের মিলেনিয়াল প্রজন্মকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই প্রজন্মই প্রথম, যারা একই বয়সে তাদের এক দশক আগে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের চেয়ে বেশি সচ্ছল নয়।
যুক্তরাষ্ট্র কেন এগিয়ে?
উড বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রায় সবখানেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কাঠামোগত গতি কমেছে। কোভিড-১৯ মহামারির আগের ১৫ বছরকে তার আগের ১৫ বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডির দেশগুলোতে গড়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা থেকে কিছুটা আলাদা চিত্র দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে উৎপাদনশীলতা বেশ ভালো হারে বেড়েছে।
তথ্য তুলনায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে বলেও উল্লেখ করেন উড। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবের মধ্যে বাজারের বাইরের খাত অন্তর্ভুক্ত না থাকায় দেশটির উৎপাদনশীলতা বাস্তবের তুলনায় কিছুটা ভালো দেখাতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় সমন্বয় করার পরও সেখানে সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের কর্মক্ষেত্র ও কাজের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় সেখানে মানুষ অনেক বেশি হারে কাজ ও কর্মস্থল বদলেছে। এর সঙ্গে এআইয়ের প্রভাবও যুক্ত থাকতে পারে বলে মনে করেন উড।
১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির প্রথম বিপ্লব উৎপাদনশীলতায় বড় গতি দিয়েছিল। সেই প্রভাব কমে যাওয়ার পর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। উডের মতে, এআই সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের মাত্রা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে বলেও তাঁর পর্যবেক্ষণ। মে মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে উড বলেন, কর্মক্ষেত্রে এআই কীভাবে ব্যবহার করা যায় এবং কাজের ধারা নতুন করে সাজানো যায়-এ নিয়ে সেখানে আলাপ অনেক বেশি এগিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এআই ব্যবহারের জরিপগুলো বরং পিছিয়ে থাকার ছবি দেখাচ্ছে। সেখানে এখনো এআইকে পুরো কর্মপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার বদলে বৈঠকের প্রতিলিপি তৈরি বা ই-মেইল লেখার মতো সহজ কাজেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উৎপাদনশীলতায় সরকারের ভূমিকা কোথায়?
উডের মতে, উৎপাদনশীলতা কোনো একক সরকারি কর্মসূচির ফল নয়। সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বেসরকারি খাত উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদনশীলতা নিয়ে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যেন এটি সরকারের কাছ থেকে আসে কিংবা সরকার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। বাস্তবে উৎপাদনশীলতা হলো অর্থনীতির প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কী ঘটছে, তার সমষ্টি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, বিনিয়োগের আগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং কর্মীদের ব্যবস্থাপনা-সবকিছুর ওপর উৎপাদনশীলতা নির্ভর করে। তবে এসব সিদ্ধান্ত আবার সরকারি নীতির কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়।
উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নীতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি করব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও প্রতিযোগিতা নীতিও ব্যবসার প্রণোদনা ঠিক করে। সরকার নিজেও অর্থনীতির একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য ও অঞ্চলগুলোসহ সরকারি সেবার পরিমাণ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতাও সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
প্রোডাক্টিভিটি কমিশনের কাজ মূলত সরকারকে নীতি পরামর্শ দেওয়া। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত কথা বলেন উড। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কিছুটা দুর্বল। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর বিনিয়োগের আগ্রহও কমেছে। অর্থনীতির মোট আকারের তুলনায় বিনিয়োগের অংশ তখন থেকে তিন শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্টভাবে কী করতে হবে, সে বিষয়ে কমিশন পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
দক্ষ অভিবাসন কি উৎপাদনশীলতা বাড়ায়?
দক্ষ কর্মী আকর্ষণে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি যথেষ্ট কার্যকর কি না, সেই প্রশ্নেও কথা বলেন উড।
প্রোডাক্টিভিটি কমিশন কিছুদিন ধরে দক্ষ অভিবাসন নিয়ে আলাদা করে কাজ করেনি। তবে আগের গবেষণায় তারা দেখেছিল, ভালোভাবে পরিচালিত দক্ষ অভিবাসন কর্মসূচি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং এর অর্থনৈতিক সুফল রয়েছে।
এর একটি কারণ হলো, অভিবাসীদের অনেকে এমন দক্ষতা নিয়ে আসেন, যেগুলোর প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার। পাশাপাশি তারা নতুন ধরনের কাজের পদ্ধতি ও চিন্তার ধারা নিয়ে আসেন, যার ফলে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুফল তৈরি হতে পারে।
তবে অতীতে অস্ট্রেলিয়া প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানুষ বাছাইয়ে খুব ভালো করতে পারেনি বলে মনে করেন উড। দক্ষতার ঘাটতির তালিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব তালিকা অর্থনৈতিক নথির পাশাপাশি রাজনৈতিক নথিও হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি তুলনামূলক বেশি বেতনের চাকরি পাওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন একটি ভিসা শ্রেণি তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, বাজারে তুলনামূলক বেশি বেতনের চাকরি পাওয়ার সক্ষমতা এমন একটি শক্তিশালী সংকেত, যা দেখায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে আসছেন।
বাজেটে দক্ষ অভিবাসীদের জন্য পয়েন্টভিত্তিক বাছাই পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ঘোষণাকেও উড গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর মতে, এই ঘোষণা যথেষ্ট প্রচার পায়নি, অথচ উৎপাদনশীলতার দিক থেকে এটি বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে-যদি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
পারকিনসন রিভিউসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি নয় যে এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারে-এমন মানুষদের যথাযথভাবে বেছে নেওয়া যায়।
উড জানান, অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগে এখন নতুন একটি তথ্যবিশ্লেষক দল তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের অভিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদে সফল হন, তা বোঝার চেষ্টা করছে। এই দলে গ্র্যাটান ইনস্টিটিউটে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা কয়েকজন গবেষকও রয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্র্যাটানে যখন তাঁরা অভিবাসন নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন হোম অ্যাফেয়ার্সে প্রশাসনিক তথ্য ব্যবহার করে কাজ করার মতো একজনও কর্মী ছিল না। এখন সেখানে দক্ষ তথ্যবিশ্লেষকদের একটি দল রয়েছে।
রাজ্যভেদে আলাদা নিয়ম বড় বাধা
অস্ট্রেলিয়ায় একটি অভিন্ন অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরির প্রয়োজন আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে উড বলেন, রাজ্যগুলোর আলাদা বাণিজ্যিক বাধা এখন তাঁকে আগের চেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।
তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দেশের ভেতর এতগুলো ক্ষেত্রে আট ধরনের আলাদা ব্যবস্থা চালু থাকা ‘একেবারেই পাগলামির মতো’। এর ফলে ব্যবসার খরচ বাড়ে, নিয়ম মেনে চলার অতিরিক্ত ব্যয় হয় এবং অর্থনীতিতেও বাস্তব ক্ষতি তৈরি হয়।
এ সমস্যা সমাধানে সরকার জাতীয় প্রতিযোগিতা নীতি নতুন করে চালু করেছে। উডের মতে, রাজ্য ও অঞ্চলগুলোকে একই টেবিলে এনে কমনওয়েলথ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য এটি উপযুক্ত কাঠামো।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থও দিচ্ছে, যাতে রাজ্যগুলো পেশাভিত্তিক লাইসেন্স, পণ্যের মান কিংবা পরিবহন-সংক্রান্ত বাধার মতো ক্ষেত্রে নিয়মকানুনের মধ্যে আরও সামঞ্জস্য আনে।
উড বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের অনেকেরই এ বিষয়ে ‘পিটিএসডি’ হওয়ার মতো অবস্থা। কারণ কিছু স্বার্থ গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠিত নিয়ম বদলাতে রাজ্যগুলোকে রাজি করানো কতটা কঠিন, তা তারা জানেন।
তবে সব ক্ষেত্রে পেশাজীবী সংগঠন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকেই দায়ী করেন না উড। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ে রাজ্যভেদে আলাদা নিয়মের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখানে অনেক সময় কোনো বিশেষ স্বার্থ জড়িত না থাকলেও প্রতিটি রাজ্য নিজের মতো করে নিয়ম তৈরি করেছে এবং পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে চায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইনগত অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে একই ধরনের আলোচনা ‘ট্রাইলগ’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন পক্ষ আলোচনায় বসে মতপার্থক্য কমিয়ে একটি অভিন্ন আইন বা ব্যবস্থা তৈরি করে।উড মনে করেন, অস্ট্রেলিয়াতেও এর একটি নিজস্ব সংস্করণ থাকা দরকার।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারিতে থাকা প্রতিযোগিতা টাস্কফোর্স রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সংস্কার ঠিক করবে। সংস্কারের পরিমাণের সঙ্গে আর্থিক প্রণোদনাও যুক্ত থাকবে।
রাজ্যগুলো এসব সংস্কার করলে যে প্রোডাক্টিভিটি ফান্ড থেকে অর্থ পাবে, তার পরিমাণ ৯০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ন্যাশনাল কম্পিটিশন কাউন্সিল ওই অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করার কথা।
তবে ১৯৯০-এর দশকের জাতীয় প্রতিযোগিতা নীতির সঙ্গে তুলনা করলে, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির আকার বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান তহবিলটি তখনকার নীতির তুলনীয় আকারের মাত্র প্রায় এক-দশমাংশ।
উডের মতে, কীভাবে সংস্কারের লক্ষ্যে পৌঁছানো হবে, সেই পথ এখনো যথেষ্ট পরিষ্কার নয়। আর সেটিই বড় বিষয়।
উৎপাদনশীলতা মাপার হিসাবেও ফাঁক
উৎপাদনশীলতা মাপার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে বাজারের বাইরে থাকা সেবাগুলোর মান নির্ধারণে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিচর্যার মতো খাতে সেবার মান কীভাবে বাড়ছে, তা প্রচলিত হিসাবে যথাযথভাবে ধরা পড়ে না।
এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও উৎপাদনশীলতার হিসাবে সেই অগ্রগতি বাদ পড়ে যেতে পারে। আর এসব সেবা মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশ হয়ে উঠতে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উড বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ার সুফল সব সময় কম দামের মাধ্যমে আসে না; অনেক সময় মানুষ একই দামে আরও ভালো সেবা পায়। তাই সেবার মানের উন্নতিও হিসাবে যুক্ত করা দরকার। কিন্তু বাজারের বাইরের সেবাগুলোর ক্ষেত্রে এখনো তা করা হয় না।
প্রায় তিন বছর আগে প্রোডাক্টিভিটি কমিশন স্বাস্থ্য খাতের উৎপাদনশীলতা নতুনভাবে মাপার চেষ্টা করেছিল। সেখানে চিকিৎসার ফলে মানুষ কত বেশি সময় ও কতটা সুস্থভাবে বাঁচতে পারছে, সেটিকে সেব