সংবাদ শিরোনাম

শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: গালিবাফ

 প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: গালিবাফ ছবি -সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের শর্ত পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আগের আলোচনায় ফিরবে না তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

রোববার পার্লামেন্টের অধিবেশনে মূল কার্যসূচি শুরুর আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের ওপর প্রথম চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরুর বার্ষিকী এবং ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’ সামনে রেখে তিনি বক্তব্য দেন।

গালিবাফ বলেন, ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’ শুধু অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করার সময় নয়। শত্রুর হামলার মুখে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে এটি ইরানিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষিত লড়াইয়ের স্মারক।

তাঁর ভাষ্য, ইরান আবারও একই ধরনের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এবার পার্থক্য হলো, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না; অঞ্চল ও বিশ্বে নতুন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

গালিবাফ বলেন, ১৯৮০-এর দশকে জনগণের দৃঢ় অবস্থান যেমন শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলেছিল, তেমনি বর্তমান সময়ের এই অবস্থান দেশটিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

এবারের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’-এর সঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়টি মিলে যাওয়ার মধ্যেও কৌশলগত বার্তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, শ্রেণিকক্ষই এখন স্যাক্রেড ডিফেন্সের নতুন যুদ্ধসীমা এবং জাতীয় প্রতিরোধক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি। শিক্ষাঙ্গনে ইরানি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেশের প্রতিরোধের পতাকা উঁচু রাখছে।

গালিবাফ বলেন, শত্রুর নানা ধারণা বা প্রচারণার কারণে ইরানে জীবনযাত্রা, উৎপাদন ও জ্ঞানচর্চার গতি থামতে দেওয়া হবে না। স্কুলগুলোর অব্যাহত কার্যক্রমই দেশকে অচল অবস্থায় দেখানোর শত্রুপক্ষের কৌশলগত প্রচেষ্টার ব্যর্থতার প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের জনগণের উদ্দেশে গালিবাফ বলেন, গত সাত মাসে দেশটি দেখিয়েছে যে আগ্রাসনের মুখে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে না। শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের কৌশল হলো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং ইরানি জনগণের ইচ্ছা প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

যুদ্ধ নাকি আলোচনা-এই দুইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার ধারণা বাস্তব নয় বলেও মন্তব্য করেন গালিবাফ। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে একই সঙ্গে যুদ্ধ করতে ও আলোচনা চালাতে হবে। তবে যুদ্ধ করতে হবে হিসাব করে ও শক্তি নিয়ে, আর প্রয়োজনীয় সময়ে কর্তৃত্ব ও যুক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে ইরানের হাতে থাকা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে শত্রুকে পিছু হটাতে হবে এবং তাকে বড় ধরনের আঘাত করতে হবে। এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হলে এবং প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে পড়লে কূটনীতির মাধ্যমে সেই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এভাবে শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করা এবং নিজেদের শক্তির ভিত্তি আরও মজবুত করার মধ্য দিয়ে 

পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট, যুক্তিসংগত এবং আলোচনার বাইরে বলে উল্লেখ করেন গালিবাফ। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের বার্তা ও শর্ত অপর পক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গালিবাফ বলেন, প্রতারণা বা একতরফাভাবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার পথ বন্ধ। ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির জনগণের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে হরমুজ প্রণালিও পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।

গালিবাফ আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়েছে। তাঁর মতে, এ অঞ্চলে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন ইসলামী দেশগুলোর।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি