সংবাদ শিরোনাম

ভিসা বন্ধ আব্বাসের, জাতিসংঘে এবার কী হবে

 প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ভিসা বন্ধ আব্বাসের, জাতিসংঘে এবার কী হবে ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে তাঁর সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াকেও যুক্তরাষ্ট্র আপত্তির কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। 

এ সিদ্ধান্তের প্রভাব অবশ্য পুরো ফিলিস্তিনি মিশনের ওপর একভাবে পড়ছে না। জাতিসংঘের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় পিএলওর পর্যবেক্ষক মিশনের কর্মীদের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। ফলে মিশনের নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। 

এদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই পিএর নথি দিয়ে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়ার ওপরও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিধিনিষেধ চালু করেছে, যদিও কূটনৈতিক ও সরকারি কাজসহ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। 

মার্কিন সিদ্ধান্তের সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে যখন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা জোরালো, তখন আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের কূটনৈতিক উপস্থিতি সীমিত হচ্ছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট। ওয়াশিংটন বলছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার পেছনে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিবেচনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম তীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি-উভয় পক্ষের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধের নীতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। 

ফলে প্রশ্নটি শুধু একজন প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘে যেতে পারা বা না-পারার মধ্যে আটকে নেই। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পথ-সবকিছুর সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় এটি চাপ প্রয়োগের একটি কূটনৈতিক ব্যবস্থা। সমালোচকদের চোখে এর ফলে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝেই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন-জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের কণ্ঠ কতটা সরাসরি ও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারবে?