সংবাদ শিরোনাম

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়, কমিশন চালু করল পাকিস্তান-চীন

 প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়, কমিশন চালু করল পাকিস্তান-চীন ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ যৌথ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে পাকিস্তান ও চীন। বুধবার ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য এবং আন্তসীমান্ত যোগাযোগে সমন্বয় আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে নতুন এই ব্যবস্থা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের চীনবিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।

পররাষ্ট্র দপ্তর পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন চালুর ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য “গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, সীমান্ত দিয়ে পণ্য চলাচল এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হবে।

এই কমিশনের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৩ সালে। সে বছর তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াংয়ের ইসলামাবাদ সফরের সময় দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিয়ে একটি চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন তদারকির জন্য যৌথ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

নতুন কমিশন সীমান্ত ঘিরে বাস্তব ও দৈনন্দিন বিভিন্ন বিষয় সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেবে। এর আওতায় সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন, যৌথ জরিপ, সীমান্তচিহ্ন-সংক্রান্ত বিষয়, সীমান্ত পারাপারের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার মোকাবিলা নিয়ে দুই দেশ নিয়মিত সমন্বয় করতে পারবে।

কমিশন চালুর ফলে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সীমান্ত যোগাযোগ নিয়েও নিয়মিত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হলো। বিশেষ করে খুনজেরাব সীমান্তপথ দুই দেশের মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি ঘিরে বাণিজ্য ও আন্তসীমান্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থার ভূমিকা থাকবে।

তবে নতুন এই কমিশন ১৯৬৩ সালে গঠিত পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত নির্ধারণ কমিশনের মতো নয়। ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ সই হওয়া চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির আওতায় ওই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তার কাজ ছিল মূলত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমান্ত জরিপ পরিচালনা, সীমান্তচিহ্ন স্থাপন, বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি এবং সীমান্তরেখার অবস্থান নির্ধারণ করা।

সীমান্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রটোকল ও মানচিত্র সইয়ের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের কমিশনের কাজ শেষ হয়ে যায়। ওই সীমান্ত চুক্তিতে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন ই বেইজিংয়ে সই করেছিলেন।

চুক্তিতে কাশ্মীর বিরোধের একটি বিষয়ও উল্লেখ ছিল। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে আবার আলোচনা করবে—চুক্তিতে এমন বিধান রাখা হয়েছিল।

এর বিপরীতে ২০১৩ সালের চুক্তি ইতিমধ্যে নির্ধারিত সীমান্ত পরিচালনার জন্য একটি চলমান ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সীমান্তচিহ্ন এবং সীমান্ত অবকাঠামো নিয়ে উদ্ভূত বিষয়ও এর আওতায় রয়েছে। কোনো সীমান্তচিহ্ন তার আগের অবস্থানে পুনঃস্থাপন করা সম্ভব না হলে যৌথ কমিশন সেটির জন্য অন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে পারবে। তবে এতে সীমান্তরেখার মূল অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না।

নতুন কমিশন চালুর বিষয়ে ভারত আপত্তি জানিয়েছে। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তির বৈধতা ভারত স্বীকার করে না। চুক্তির আওতাভুক্ত ভূখণ্ডকে ভারত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তথাকথিত যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি, কারণ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।”

তবে পাকিস্তান ও চীনের দৃষ্টিতে নতুন কমিশন দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ২০১৩ সালের চুক্তির পর থেকে সীমান্তে যেসব বাস্তব সমস্যা সামনে এসেছে, সেগুলো নিয়ে নিয়মিত সমন্বয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন চালুর ফলে সীমান্ত নিয়ে পাকিস্তান, চীন বা ভারতের বৃহত্তর ভূখণ্ডগত অবস্থানগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে না।

সূত্র:ডন