সংবাদ শিরোনাম

মক্কা জোট নিয়ে পাকিস্তানের বড় বার্তা, জানালেন আহমেদ শরীফ

 প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মক্কা জোট নিয়ে পাকিস্তানের বড় বার্তা, জানালেন আহমেদ শরীফ ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কোনো আঞ্চলিক আধিপত্যের লক্ষ্য নেই বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, এই জোটের উদ্দেশ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

বুধবার প্রচারিত আল আরাবিয়া ইংলিশের ‘গ্লোবাল নিউজ টুডে’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক টম বার্গেস ওয়াটসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় পাকিস্তানের দায়িত্ব কী-এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরীফ বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কয়েক দশকের সম্পর্ককে যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা, নাকি বড় কোনো কৌশলগত জোটের সূচনা-উপস্থাপকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নামেই বিষয়টি পরিষ্কার। এটি প্রতিরক্ষামূলক। এর মধ্যে কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই এবং কোনো আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাও নেই। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা।

তাঁর মতে, জোটটি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তিন সদস্যের বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং পরিপূরক। কারণ পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক-তিন দেশই অন্য রাষ্ট্র, জোট ও গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেদের স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখে।

তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্যরা প্রতিরক্ষায় বাধ্য থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরীফ বলেন, তিন দেশের নেতৃত্ব যে চুক্তির পাঠ প্রকাশ করেছে, তাতেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে কীভাবে সেই প্রতিরক্ষা কার্যকর করা হবে, সেটি প্রকাশ্যে জানানো হবে না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ও বাধ্যবাধকতামূলক অনেক চুক্তি রয়েছে। কিন্তু কোনো দেশই সেসব চুক্তির সামরিক কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করে না। পাকিস্তানকে কীভাবে আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা হবে, সেটি তিন দেশের নিজেদের সিদ্ধান্ত এবং তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোরই জানার বিষয়।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব দেখছে না পাকিস্তান

মক্কা জোট পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলবে কি না-এমন প্রশ্নেও আহমেদ শরীফ বলেন, এই জোট বরং ইসলামাবাদ-বেইজিং সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, পাকিস্তান-সৌদি আরব এবং পাকিস্তান-তুরস্কের সম্পর্ক হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এসব সম্পর্কের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। চীন বিষয়টি বোঝে, বিশ্বও বোঝে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ককেই আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, তিন দেশের কারও এতে আপত্তি নেই এবং সবাই জানে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিন সদস্য দেশের সঙ্গেই চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

মক্কা জোট ভবিষ্যতে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হতে পারে কি না, জানতে চাইলে পাকিস্তানের এই সামরিক মুখপাত্র বলেন, চুক্তির কোথাও এটিকে মুসলিম দেশগুলোর জোট বলা হয়নি। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি জোট।

তিনি বলেন, এটি শুধু মুসলিম দেশগুলোর জন্য তৈরি কোনো ক্লাব নয়। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় বিশ্বাসী এবং আগ্রাসন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ও যৌথ প্রতিরোধের নীতিতে একমত নতুন কোনো দেশ এতে যোগ দিতে চাইলে সুযোগ থাকতে পারে। তবে কাকে, কখন এবং কীভাবে যুক্ত করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্ব।

গত ৭ আগস্ট তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সই করে। এতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা তিন সদস্যের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে জোটের প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য জোটের সচিবালয়ের নেতৃত্ব পাকিস্তানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তুরস্ক শুরুতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছিল। তবে কায়রো এখনো এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বলেছিলেন, এটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। ইসহাক দার আরও বলেছিলেন, মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে আগ্রহী অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্য জোটটি উন্মুক্ত।

তবে গত সপ্তাহের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাহ হায়দার খানকে জোট সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই সময় এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাঁর ব্যাখ্যা, একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রয়োজন রয়েছে-এমন অন্য দেশকে যুক্ত করার আগে তিন সদস্যকে নতুন সংগঠনটি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ‘বিশেষ অবস্থান’

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন আহমেদ শরীফ। এই মধ্যস্থতার সঙ্গে মক্কা জোটের সম্পর্ক তেহরানের প্রতি ইসলামাবাদের অবস্থানকে জটিল করে তুলছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয়।

তাঁর মতে, মক্কা জোট কয়েক দশকের কৌশলগত সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ। বর্তমান ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সেই সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়া হয়েছে। তিনি আবারও বলেন, জোটটির ভিত্তি যৌথ প্রতিরোধ এবং এতে কোনো আক্রমণাত্মক উপাদান নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ফেব্রুয়ারির হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে পাকিস্তান কেন মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে-এমন প্রশ্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘আঞ্চলিক শান্তির জন্য।’

আহমেদ শরীফ বলেন, স্থিতিশীলতার ভিত্তি শান্তি। পাকিস্তানও অঞ্চলে শান্তির পক্ষে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকায় এই ক্ষেত্রে দেশটির একটি ‘বিশেষ অবস্থান’ রয়েছে। সে কারণে ইসলামাবাদ নিজেকে শান্তির একজন ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ ও ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করে।

মধ্যস্থতার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যকর মধ্যস্থতার অন্যতম শর্ত হলো নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকা। তাই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সংঘাতের কোনো ঘটনা নিয়ে পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে ‘বোধোদয় হয়’ এবং সামরিক সমাধানের বদলে এই জটিল পরিস্থিতির একটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, মধ্যস্থতা ছাড়া এই সংঘাত সমাধানের আর কোনো পথ আছে কি না, কিংবা তার চেয়ে কাঙ্ক্ষিত কোনো পদ্ধতি আছে কি না।

তিনি বলেন, একটি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন। দুই পক্ষের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও আন্তরিকভাবে মধ্যস্থতা করতে পারে-এমন সবারই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

পশ্চিম সীমান্ত নিয়ে পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরীফ বলেন, সীমান্ত, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তান নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ‘খুবই আত্মবিশ্বাসী’ এবং ‘নিজের ওপর নির্ভরশীল’।

তবে তিনি স্বীকার করেন, যেকোনো সংঘাতের প্রভাব অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে সবসময়ই উদ্বেগ থাকে। পাকিস্তান তো বটেই, গোটা বিশ্বই এই সংঘাতের প্রভাব অনুভব করছে।

তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্বেগ থাকলেও পাকিস্তানের দিকে কোনো ‘অশুভ পরিকল্পনা’ এগিয়ে এলে তা মোকাবিলায় দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত।

পাকিস্তান আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায়, নাকি যুদ্ধ যাতে নিজেদের দরজায় না পৌঁছায় সেটিই মূল লক্ষ্য-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পাকিস্তানের আগ্রহ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায়। কারণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা উন্নয়ন, মানুষের জীবনমান, সমৃদ্ধি এবং পাকিস্তানসহ পুরো অঞ্চলের জনগণের জন্য জরুরি।

তিনি বলেন, মধ্যস্থতার উদ্দেশ্য যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে পাকিস্তান সবসময় সেখানে থাকবে।

ভারতের সঙ্গে ফের সামরিক যোগাযোগের সম্ভাবনা

সাক্ষাৎকারে এরপর উঠে আসে গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও ভারতের সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ। ওই সংঘাত থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কী শিক্ষা নিয়েছে-এমন প্রশ্নে আহমেদ শরীফ বলেন, পাকিস্তান ও তার সামরিক বাহিনী ওই সংঘাতের সময় কী শিক্ষা দিয়েছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সামরিক সংঘাত হওয়া তাঁর মতে ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। তিনি একে ‘উন্মাদ ধরনের ধারণা’ বলেও মন্তব্য করেন।

আহমেদ শরীফের দাবি, গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান দেখিয়েছে, ভারত একটি ‘কৌশলগত ভুল’ করেছে। ভারত সেই শিক্ষা নিয়েছে কি না, তা ভারতের পক্ষকেই বলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের কাজ হলো ভারতকে সেই শিক্ষার কথা মনে করিয়ে যাওয়া। তাঁর অভিযোগ, ভারতের নেতৃত্বের মধ্যে ‘অহংকেন্দ্রিক মানসিকতা’ রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনী ‘গভীরভাবে রাজনীতিকীকৃত’।

তাঁর আরও অভিযোগ, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখায়। এ ক্ষেত্রে তিনি সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের উদাহরণ দেন। একই সঙ্গে কাশ্মীরকে তিনি ভারতের একটি ‘বাহ্যিক সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দমন-পীড়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতকে বারবার জানিয়ে আসছে, ইসলামাবাদ সমান মর্যাদার ভিত্তিতে শান্তিতে বিশ্বাসী এবং দেশটি একটি যুক্তিবাদী ও বস্তুনিষ্ঠ পক্ষ।

তবে ভারতের কোনো ‘সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে আঞ্চলিক আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার ভুল ধারণা থাকলে তার ফল ভারতের কল্পনারও বাইরে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

আহমেদ শরীফের দাবি, গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ভারত ও বিশ্বকে দেখিয়েছে যে উত্তেজনা বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করার সক্ষমতা ও দৃঢ়তা ইসলামাবাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও তা করব।’

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ফের চালুর বাস্তব সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তাঁর উত্তর ছিল, ‘অবশ্যই।’

তিনি জানান, গত বছরের মে মাসের সংঘাতের সময় এবং এরপরও দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও পর্যায়ের যোগাযোগ কার্যকর ছিল।

আহমেদ শরীফ বলেন, যোগাযোগ সবসময়ই ভালো বিষয়। দুই দেশকে যোগাযোগ রাখতে হবে, পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। তবে সেই যোগাযোগ হতে হবে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে এবং একে অন্যের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে।

ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ আবার শুরু করা হবে কি না, সেটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। তবে আলোচনাও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে।

আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের লক্ষ্য কী

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কী ধরনের পরিস্থিতি দেখতে চায়-এমন প্রশ্নে আহমেদ শরীফ বলেন, সামরিক বাহিনীর আলাদা কোনো লক্ষ্য নেই। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, সেটিই সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য।

তাঁর ভাষ্য, পাকিস্তানের উদ্দেশ্য মূলত আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং সেখান থেকে যেন পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ না আসে, তা নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সীমান্তপারের হামলা ঠেকাতে পাকিস্তান কোন পদক্ষেপকে বৈধ মনে করে—এমন প্রশ্নে তিনি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রতিটি রাষ্ট্রের রয়েছে।

পাকিস্তানি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের জীবন, সম্মান ও সম্পদ রক্ষা করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে লক্ষ্য পূরণে যা প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে এবং করা হবে।

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি এটিকে ‘বিশ্বের একমাত্র সফল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ বলে দাবি করেন। তাঁর যুক্তি, আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান একটি ‘প্রাচীরের মতো রাষ্ট্র’ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান বা আইবিও পরিচালনা করা হয়েছে এবং এসব অভিযানে ২ হাজার ১০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

বেলুচিস্তানে ‘বিদ্রোহ নয়, সন্ত্রাস’

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে আলোচনায় আসে বেলুচিস্তান। সেখানে কোনো বিদ্রোহ চলছে না বলে দাবি করেন আহমেদ শরীফ। তাঁর ভাষায়, সেখানে ‘শুধু সন্ত্রাসবাদ’ রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ের অবস্থান পরিষ্কার।

৪২ হাজার গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি বেলুচিস্তানে পরিচালিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে নিজেদের ‘বেলুচিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলে পরিচয় দেওয়া বিভিন্ন কথিত প্রক্সির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার, বেলুচিস্তানের জনগণ এবং সামরিক বাহিনী-তিন পক্ষই বোঝে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার পথ হলো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে বেলুচিস্তানের জনগণকে পাশে রাখা।

সূত্র: ডন