মাহসা আমিনির মৃত্যুর চার বছর: যেভাবে বদলাল ইরান
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চার বছর আগে এই সপ্তাহেই বদলে যেতে শুরু করেছিল ইরানের রাজপথ। ২২ বছরের তরুণী মাহসা ‘জিনা’ আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন শুধু বিক্ষোভের চেহারাই বদলায়নি, নারীদের পোশাক, স্বাধীনতা ও নিজেদের পরিচয় নিয়েও ইরানি সমাজে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের একটি মেট্রো স্টেশন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় আমিনিকে আটক করে গাইডেন্স প্যাট্রোল-যা ইরানের নৈতিকতা পুলিশ নামে পরিচিত। অভিযোগ ছিল, তাঁর হিজাব কপালের দিক থেকে কিছুটা সরে গিয়েছিল। দুই নারী ও দুই পুরুষ পুলিশ সদস্য তাঁকে একটি ভ্যানে তুলে ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রে’ নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পোশাকবিধি সম্পর্কে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ছিল।
সরকার প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তেহরানের ওই কেন্দ্রে চাদর পরা এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলার সময় আমিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁকে কাছের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর, তিনি মারা যান।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, আমিনির আগে থেকেই কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো দায় নেই। তবে তাঁর বাবা আমজাদ আমিনি বলেছিলেন, একই ভ্যানে থাকা অন্য আটক নারীরা তাঁকে জানিয়েছেন, ভেতরে তাঁর মেয়েকে মারধর করা হয়েছিল। জাতিসংঘের স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন পরে জানায়, আমিনির ওপর নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে শারীরিক সহিংসতা হয়েছিল এবং তাঁর বেআইনি মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্র দায়ী।
ঘটনাটি প্রথম বড় আকারে সামনে আনেন স্থানীয় সংবাদপত্রের দুই নারী সাংবাদিক। আমিনির মৃত্যুর খবরের সঙ্গে প্রকাশিত তাঁর বাবা-মায়ের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সামনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকার হৃদয়বিদারক ছবিটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় নিরাপত্তার অভিযোগে ওই দুই সাংবাদিককেই কারাগারে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের সামনে প্রথমে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। এরপর পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান প্রদেশের আমিনির নিজ শহর সাকেজে তাঁর জানাজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। নারীদের জন্য আরও স্বাধীনতা এবং ইরানিদের জন্য বৃহত্তর নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে চলা এই আন্দোলন ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দেশের বাইরে থেকেও ব্যাপক সমর্থন আসে।
আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত স্লোগান হয়ে ওঠে কুর্দি ভাষার ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের হিসাবে, ওই বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৫০ জন নিহত হন; তাঁদের মধ্যে ৬৮ শিশু ও ৪৯ নারী ছিলেন। নিহতদের ঘটনা ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টিতে নথিভুক্ত হয়েছিল।
চার বছর পরও আন্দোলনের প্রভাব ইরানের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। তেহরানের ২৬ বছর বয়সী বাহার-নিরাপত্তার কারণে যিনি শুধু প্রথম নামটি ব্যবহার করেছেন-বলেছেন, তিনি কখনোই বাধ্যতামূলক হিজাবকে সমর্থন করেননি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের নারীদের মতো নিজের পোশাক নিজে বেছে নেওয়ার অধিকার তাঁরও থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বাহারের ভাষায়, আগে তাঁর মনে হতো, নিজের পছন্দমতো পোশাক পরার সুযোগ হয়তো কখনোই আসবে না। কিন্তু ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন ইরানি সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। তাঁর মতে, এই আন্দোলন আরও অগ্রসর একটি সামাজিক পরিচয় তৈরি করেছে, যা এখন আর কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিক্ষোভের পরও বেশ কিছুদিন বাহার নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিশোধের আশঙ্কায় গলায় একটি হিজাব ঝুলিয়ে রাখতেন। এখন সেটিও সঙ্গে রাখেন না।
তেহরানের আরেক তরুণী সেটারেহও বলছেন, নিজের পোশাক ও চেহারা নিয়ে তাঁর পরিবারের সমর্থন আগের চেয়ে বেড়েছে। রাস্তায় পোশাক নিয়ে তাঁকে আগের তুলনায় কম কথা শুনতে হয়। হিজাব না পরার কারণে রাইড-হেইলিং চালকেরা তাঁকে যাত্রা দিতে অস্বীকার করেন-এমন ঘটনাও এখন খুব কম।
সেটারেহ বলেন, মানুষ ও পরিবারগুলো, বিশেষ করে পুরুষেরা, নারীদের স্বাভাবিকভাবে পোশাক পরার বিষয়টির সঙ্গে এখন বেশি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, যদিও সবাই তা পছন্দ করেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে চার বছর আগের পরিবর্তনের নানা স্মৃতি তুলে ধরছেন। এমনই একটি পোস্টে স্মরণ করা হয়েছে, কীভাবে দুই তরুণী তৎকালীন সময়ে নজিরবিহীনভাবে তেহরানের কেন্দ্রের একটি ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় হিজাব ছাড়া সকালের নাশতা করতে বসেছিলেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের সেই পদক্ষেপের পর আরও অসংখ্য নারী একইভাবে প্রকাশ্যে হিজাব ছাড়া চলাফেরা শুরু করেন।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরপরই ইরানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এই পোশাকবিধি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার চেষ্টা করেছে।
২০২২ সালের বিক্ষোভ শুরু হলে সরকার পাল্টা বয়ান তৈরির চেষ্টা করে এবং সরকারপন্থী সমাবেশ আয়োজন করে। রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল মহল এখনো সরকারি পোশাকবিধি অমান্য করা নারীদের সমালোচনা করে আসছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে আরও কঠোর হিজাব আইন পাস হয়। এতে নিয়ম ভাঙলে আগের চেয়ে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পরে বলেন, অধিকাংশ মানুষ এই আইন মেনে নেয়নি বলে তিনি এটি কার্যকর করতে পারবেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আইনটি প্রয়োগ করা হলে দেশে আবার অস্থিরতা বাড়তে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপও ইরানের ওপর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো বুধবার বলেন, ওই আইন স্থগিত থাকলেও হিজাবসংক্রান্ত বিধি প্রয়োগ থেমে নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বহু ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও দোকান কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কিছু কর্মী ও গ্রাহককেও আটক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বাধ্যতামূলক হিজাবের প্রয়োগ অব্যাহত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
এই সপ্তাহে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানে হিজাব আইন ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নারীকে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী ভ্যান ও বাসে তুলে নিয়ে গেছে। রাশত ও মাশহাদ থেকেও একই ধরনের অভিযানের খবর এসেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি বা মন্তব্য করেনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আমিনির মৃত্যুর বার্ষিকী উপলক্ষে সাকেজ ও কুর্দিস্তানের অন্য কয়েকটি শহরে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। প্রধান সড়ক ও চত্বরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতেই সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।
চার বছর আগে আমিনির মৃত্যুর ৪০ দিন পর সাকেজে তাঁর সমাধিস্থল আইচি কবরস্থানের দিকে হাজারো মানুষ যাওয়ার সময় এক নারীকে একটি গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মাথায় হিজাব না থাকা ওই নারীও তখন আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বিক্ষোভ ঠেকাতে সেদিন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির শ্বশুর ও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেল এ সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইরানের ‘শত্রুরা’ নারীদের হিজাব না পরার মাধ্যমে একটি ‘অবক্ষয়িত পশ্চিমা জীবনধারা’ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর দেশটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছে। ওই যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় বহু শিশু নিহত হয়; বিভিন্ন সূত্রে নিহতের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে, তবে স্কুলটিতে প্রায় ১২০ শিশু নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
হাদ্দাদ-আদেল বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত হিজাব ইস্যুতে কর্তৃপক্ষ যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সেভাবে এগোতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ হিজাব আইন প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখাচ্ছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান হোসেইন তাইয়েবও এ সপ্তাহে বাসিজ কমান্ডারদের এক সভায় বলেন, হিজাব ইস্যুটি ‘ঐক্যের’মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের বিষয়কে দেশের অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
অ্যামনেস্টির নতুন প্রতিবেদন
চার বছর পূর্তির দিনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নতুন এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে আবারও বলেছে, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। সংগঠনটি ৮৭ জন ইরানি কর্মকর্তার নাম দিয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
অ্যামনেস্টির এক হাজারের বেশি পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে হত্যা, নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, কারাবন্দি করা, ধর্ষণ এবং রাজনৈতিক, লিঙ্গ, জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহে ২৭০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি ভিডিওসহ বিপুল নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, যেসব ৮৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ৬২ কমান্ডার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ কর্মকর্তা রয়েছেন। তালিকায় জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি প্রাদেশিক ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আছেন।
তালিকায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরির নামও রয়েছে। দুজনই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদির নামও প্রতিবেদনে রয়েছে; তিনি বর্তমানে আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ।
অ্যামনেস্টির ভাষ্য, ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের কমান্ড ও সমন্বয় বিশ্লেষণ করেই নামগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এ তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়।
জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২২ সালের আন্দোলনে অন্তত ৫৫১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৯ নারী ও ৬৮ শিশু ছিলেন। একই অনুসন্ধানে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যও উঠে আসে।
অ্যামনেস্টির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের আন্দোলনে তাদের নথিভুক্ত ৩৭৭ জন নিহত হয়েছেন-যাঁদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারী দুজনই ছিলেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের নথিভুক্ত অধিকাংশ মানুষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান।
চার বছর পর ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের রাজপথের বিস্ফোরণ হয়তো আগের মতো নেই। কিন্তু পোশাক, নারী অধিকার ও রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক নিয়ে যে সামাজিক পরিবর্তন তখন দৃশ্যমান হয়েছিল, ইরানের বহু মানুষের বক্তব্যে তার ছাপ এখনো স্পষ্ট। একই সঙ্গে হিজাব আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার খবরও দেখাচ্ছে-এই সংঘাতের অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি।