জেপি মরগ্যানের সামনে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং জায়ান্ট জেপি মরগ্যান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি বিশ্বের প্রথম ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের ব্যাংক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমি ডিমনের নেতৃত্বে দুই দশকের অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পর নিউইয়র্কভিত্তিক এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি এখন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।
মঙ্গলবার প্রকাশিত শক্তিশালী আর্থিক ফলাফলের পর জেপি মরগ্যানের শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। এর ফলে ব্যাংকটির বাজারমূল্য প্রায় ৯১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য বড় ব্যাংকের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
বাজারমূল্য বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বলতে একটি কোম্পানির মোট শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্যকে বোঝায়। ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সীমা অতিক্রম করতে পারলে জেপি মরগ্যান প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান যেমন টেসলা, মেটা ও ব্রডকমের মতো বিশ্বের অতি মূল্যবান কোম্পানির তালিকায় জায়গা করে নেবে।
ব্যাংকটির এই উত্থানের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী বিনিয়োগ ব্যাংকিং ব্যবসা, সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ কার্যক্রম এবং বিশাল আর্থিক সক্ষমতা। ওয়াল স্ট্রিটের বড় চুক্তি সম্পাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবা-দুই ক্ষেত্রেই জেপি মরগ্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে বড় ব্যবসায়িক চুক্তি ও অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাড়তে পারে। এতে ব্যাংকটির বিনিয়োগ ব্যাংকিং বিভাগ আরও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জেরেমি বার্নাম জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তাদের পাইপলাইন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
জেপি মরগ্যানের বিশেষ সুবিধার একটি বড় অংশ এসেছে এর বৈচিত্র্যময় ব্যবসা কাঠামো থেকে। আর্থিক সেবার বিভিন্ন খাতে শক্ত অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ব্যাংকটির সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেমি ডিমনের নামও। বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ডিমন প্রিমিয়াম’ বা বাড়তি আস্থার বিষয় তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, তার নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী জেপি মরগ্যানকে বাড়তি মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকেন।
যদিও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, তবুও শেয়ারবাজারে ডিমনের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। চলতি বছর জেপি মরগ্যানের শেয়ার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ও ব্যাংক খাতের সূচকের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এর মূল্যায়ন এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অর্জন করলেই ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এত বড় মাইলফলকের পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও অনেক বেড়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির ট্রেডিং ব্যবসা বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। তবে এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক অস্টিন ট্যাগার্টের মতে, জেপি মরগ্যানের শেয়ার বর্তমানে মোটামুটি ন্যায্য মূল্যায়নে রয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও ট্রেডিং কার্যক্রম প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করলেও বর্তমান গতি দীর্ঘ সময় বজায় থাকবে-এমন ধারণা এখনই করা ঠিক হবে না।