এরদোয়ান বললেন ফেতো কোয়ারেন্টিনে, তবু হুমকি বহাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, দেশটিতে অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে জড়িত গুলেনপন্থি সংগঠন ফেতো (FETÖ) এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। বুধবার রাজধানী আঙ্কারায় দেশটির পার্লামেন্টে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরদোয়ান বলেন, ফেতো এখনও সক্রিয় রয়েছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুরস্কবিরোধী অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংগঠনটি ভবিষ্যতে আবারও কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করতে পারে।
তুরস্কের পার্লামেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এরদোয়ান ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও আইনপ্রণেতাদের প্রতিরোধের প্রশংসা করেন। ওই সময় পার্লামেন্ট ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১০ বছর আগে ব্যর্থ হলেও ফেতো তাদের উদ্দেশ্য থেকে সরে যায়নি। তুরস্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তারা সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এরদোয়ান দাবি করেন, ফেতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টি এবং তুরস্কের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সংগঠনটির সদস্যরা দেশের শত্রুদের স্বার্থে কাজ করছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা শিল্প, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে তুরস্কের যে অগ্রগতি হয়েছে, তার পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফেতোর প্রভাব দূর করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে ফেতোর নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের মৃত্যুর পর সংগঠনটির মনোবল দুর্বল হয়েছে। তবে এর ঝুঁকি এখনও রয়েছে।
এরদোয়ানের ভাষায়, “ফেতোর হুমকি এখন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে, কিন্তু বিপদ রয়ে গেছে।” তিনি বলেন, এটি এমন একটি মতাদর্শ, যারা একসময় দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলেছিল—এ বিষয়টি ভুলে যাওয়া যাবে না।
এদিকে, গুলেনপন্থিদের একটি অংশ ‘ইয়েনি হারকুল’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে এরদোয়ানের কাছে প্রকাশ্য চিঠি দিয়েছে। এতে তারা ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এরদোয়ান ফেতো সদস্যদের জন্য কোনো সাধারণ ক্ষমার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অপরাধীকে ক্ষমা করা নিরপরাধের প্রতি অবিচার।”