সংবাদ শিরোনাম

আইসিসিতে যোগ দিতে বিল আনলেন ওমর

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আইসিসিতে যোগ দিতে বিল আনলেন ওমর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির কার্যক্রম দুর্বল করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এ উদ্যোগ নিলেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আবারও সামনে এসেছে।

বুধবার উত্থাপিত প্রস্তাবে ওমর বলেন, যেসব দেশে নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের শিকার মানুষ নিজ দেশে ন্যায়বিচার পান না, সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নিতে চায়, তবে এই আদালতকে দুর্বল না করে বরং শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, "কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এ বার্তাই বিশ্বের সামনে তুলে ধরা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের।"

এর আগে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আদালটির কার্যক্রম সীমিত করতে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও আইসিসির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনউনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, এর বিচারক, কর্মকর্তা বা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা চাপ গ্রহণযোগ্য নয়।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ২০২২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আইসিসি কিছুটা দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সে সময় রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আদালতটিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যেখানে আইনের শাসন অনুপস্থিত এলাকায় অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। একই সময়ে ইলহান ওমরও এ ধরনের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে উত্থাপন করেছিলেন।

ওমর জানিয়েছেন, তিনি সেই প্রস্তাবই নতুন করে কংগ্রেসে এনেছেন এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী আইনপ্রণেতাদের এতে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁর এ প্রস্তাব রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের এক নির্বাহী আদেশের কারণে পশ্চিম তীর ও গাজায় কথিত ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধের তদন্তে আইসিসির সঙ্গে তাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কো রুবিও আইসিসির এখতিয়ার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র 'রোম সংবিধি' বা রোম স্ট্যাটিউট নামের আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য নয়। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সংঘটিত অপরাধের ওপর সরাসরি বিচারিক ক্ষমতা নেই।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) হলো যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত। ২০০২ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই আদালতের সদস্য বর্তমানে ১২৫টি দেশ। যুগোস্লাভিয়া, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া ও সিয়েরা লিওনের যুদ্ধাপরাধ বিচারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান