সংবাদ শিরোনাম

সৌদিকে ‘অবরোধের’ হুমকি হুথিদের

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সৌদিকে ‘অবরোধের’ হুমকি হুথিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে হুথি আন্দোলন (আনসার আল্লাহ)। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, সানার আকাশপথে অবরোধ আরোপ করা হলে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোও একই পরিণতির মুখে পড়বে। তার এই বক্তব্যে ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরে চলা আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, সানা বিমানবন্দরে যেসব হামলা চালানো হয়েছে, তার জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, "তারা যদি সানা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করতে হামলা চালাতে পারে, তাহলে ইয়েমেনেরও অধিকার রয়েছে তাদের বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের ওপরও একই ধরনের অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া।"

সোমবার সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। হুথিদের দাবি, এ হামলার পেছনে সৌদি আরব রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে সানায় অবতরণ করতে বাধা দেওয়া।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধের "উত্তেজনা প্রশমনের অধ্যায়" শেষ হয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে হোদেইদায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে ওঠে। চার বছর আগে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে।

হামলার সময় ইরান থেকে আসা একটি বিমান সানায় অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই বিমানে তেহরানে অনুষ্ঠিত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া হুথি প্রতিনিধিদল ফিরছিল। প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ আল-বুখাইতিও। হামলার কারণে বিমানটি পরে হুথি-নিয়ন্ত্রিত লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর হোদেইদায় অবতরণ করে।

এই ঘটনার পরপরই হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।

হুথিরা জানিয়েছে, সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে এবং এ পথে বাধা দেওয়া হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের বিমান চলাচলও অচল করে দেওয়া হবে।

ইয়েমেন সরকার অভিযোগ করেছে, ইরান বেসামরিক বিমান চলাচলের আড়ালে হুথিদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল-সাদি দাবি করেন, সানায় নামতে চাওয়া বিমানটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং এতে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বহন করা হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, হুথি প্রতিনিধিদলকে ইয়েমেনের নিজস্ব এয়ারলাইন্সে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ে। লোহিত সাগরের এই প্রবেশমুখ নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা এই নৌপথ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আল-বুখাইতি বলেন, "বাব আল-মান্দেব ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। যারা আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা এটি ব্যবহার করব। তবে যেসব দেশ সংঘাতে জড়িত নয়, তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।"

এর আগে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা জাহাজে একাধিক হামলা চালায়। এসব হামলায় লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, অন্তত নয়জন নাবিক নিহত হন, চারটি জাহাজ ডুবে যায় এবং আরও কয়েকটি জাহাজ জব্দ করা হয়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইয়েমেনে সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা