সংবাদ শিরোনাম

বিশ্বকাপ সেমিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল আর্জেন্টিনা শিবির

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপ সেমিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল আর্জেন্টিনা শিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিফাইনালের আগে দলের ক্লান্তি বা পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর ভাষায়, সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটাই দলের বড় অর্জন, এখন লক্ষ্য শুধু আরেকটি ফাইনাল নিশ্চিত করা।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, “আমরা ভালো অবস্থায় আছি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছি, আর সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই পর্যায়ে আবারও পৌঁছে দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে নেতৃত্বে রেখে এবারের বিশ্বকাপে বেশ কঠিন পথ পেরিয়ে শেষ চারে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারানোর পর মিসরের বিপক্ষেও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে একই ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল।

তবে টানা অতিরিক্ত সময় খেলার কারণে ক্লান্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্কালোনি।

তিনি বলেন, “দেড় মাস আগে যদি কেউ বলত আমরা সেমিফাইনালে উঠব, আমি সঙ্গে সঙ্গেই সেটা মেনে নিতাম। কীভাবে এখানে এসেছি, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমরা ক্লান্ত কি না, সেটাও এখন ভাবছি না। কারণ এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।”

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই মানেই ফুটবল ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং এরপর তাঁর অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যের গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

সেই ম্যাচের স্মৃতি তুলে ধরে স্কালোনি বলেন, “মনে হয়, ফুটবলপ্রেমী সবাই সেই ম্যাচটি মনে রেখেছেন। বিশেষ করে ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। অসাধারণ সেই গোল শুধু আর্জেন্টিনার নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের সম্পদ। আর সেটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হয়েছিল।”

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছিল প্রবল। তবে এবার সেই প্রসঙ্গকে মাঠের বাইরে রাখতেই চান আর্জেন্টিনা কোচ।

স্কালোনি বলেন, “এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। বহু বছর আগের রাজনৈতিক ঘটনাকে আমি এই ম্যাচের সঙ্গে মেলাতে চাই না। আমাদের ইতিহাসের সেটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক সময়। কিন্তু এখন আমরা শুধু ফুটবল নিয়েই ভাবছি।”

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের দুই তারকা জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনকে নিয়েও সতর্ক আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে এই দুই ফুটবলারের পা থেকে।

স্কালোনি বলেন, “প্রতিপক্ষের শক্তি বিশ্লেষণ করে তাদের কীভাবে আটকে রাখা যায়, সেটিই আমাদের পরিকল্পনার অংশ। দলে পরিবর্তনও আসতে পারে, আবার একই একাদশও খেলতে পারে। বেলিংহ্যাম ও কেইন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম। যেকোনো কোচই তাদের দলে পেতে চাইবেন।”