সংবাদ শিরোনাম

কাতারে শোক জানাতে বিশ্বনেতাদের ঢল

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কাতারে শোক জানাতে বিশ্বনেতাদের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কাতারের সাবেক আমির ও আধুনিক কাতারের রূপকার শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা যাওয়ার পর দেশটিতে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, যুবরাজ, প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা দোহায় পৌঁছাচ্ছেন। কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি রাজধানীর লুসাইল প্রাসাদে তিন দিনব্যাপী শোকগ্রহণ কর্মসূচিতে বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে সমবেদনা গ্রহণ করছেন।

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের শাসক ছিলেন শেখ হামাদ। তাঁর নেতৃত্বেই জ্বালানি সম্পদনির্ভর ছোট উপসাগরীয় দেশটি বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি ও গণমাধ্যমে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। রোববার ৭৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নেতারা

বাহরাইনের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফা সোমবার প্রথম দিকেই দোহায় এসে সমবেদনা জানান।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মঙ্গলবার সকালে লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহও সোমবার আমির শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সোমবার এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার কাতারে গিয়ে প্রয়াত শেখ হামাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সোমবার শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি সোমবার রাতে লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানিও সোমবার সন্ধ্যায় সমবেদনা জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং আজমানের ক্রাউন প্রিন্স শেখ আম্মার বিন হুমাইদ আল নুয়াইমি সোমবার দোহায় যান। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান টেলিফোনে আমির শেখ তামিমের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ সোমবার কাতারে গিয়ে সমবেদনা জানান। একই দিনে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে শেখ তামিমের সঙ্গে কথা বলে শোক প্রকাশ করেন।

ওমানের উপপ্রধানমন্ত্রী (প্রতিরক্ষা) সাইয়্যিদ শিহাব বিন তারিক আল সাঈদ, মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখান্নুশ, লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আবদুল হামিদ দবেইবাহ এবং লিবিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস আল-মেনফিও কাতারে গিয়ে সমবেদনা জানান।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই এবং আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমিও মঙ্গলবার লুসাইল প্রাসাদে উপস্থিত হয়ে শোক জানান।

ইউরোপ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মঙ্গলবার সকালে শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।

সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইগনাজিও ক্যাসিসও একই দিন লুসাইল প্রাসাদে যান।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সোমবার সন্ধ্যায় কাতারে গিয়ে প্রয়াত সাবেক আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আফ্রিকার নেতাদের উপস্থিতি

মরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উলদ গাজুয়ানি, কোমোরোসের প্রেসিডেন্ট আজালি আসুমানি, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দোহায় গিয়ে কাতারের শোকাহত রাজপরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

দক্ষিণ এশিয়া থেকেও সমবেদনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুও সোমবার সন্ধ্যায় সমবেদনা জানান।

ভারতের পক্ষ থেকে দেশটির সংসদীয় ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মঙ্গলবার কাতার সফর করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানানোর কথা রয়েছে।

মধ্য এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভ সোমবার সন্ধ্যায় লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রয়াত শেখ হামাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের এই উপস্থিতি কেবল একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি সম্মানই নয়, বরং আধুনিক কাতার গঠনে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ঐতিহাসিক অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও তুলে ধরছে।

সূত্র: আলজাজিরা