সংবাদ শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

 প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক নীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরল এক রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন সিনেটে। ডেমোক্র্যাটরা একজোট হয়ে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিলের (এনডিএএ) ওপর বিতর্ক শুরু করার প্রস্তাবই আটকে দিয়েছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৫০টি, বিপক্ষে ৪৬টি। তবে সিনেটে বিতর্ক শুরু করতে প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট। ফলে কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রায় প্রতি বছরই পাস হওয়া এই বিল এবার প্রথম ধাক্কাতেই থমকে যায়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বিল এগিয়ে নেওয়া হলে সেটি কার্যত প্রেসিডেন্টকে আরও সামরিক পদক্ষেপের রাজনৈতিক অনুমতি দেওয়ার শামিল হবে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভোটের আগে বলেন, ‘রিপাবলিকানরা এমনভাবে এনডিএএ পাস করতে চাইছে, যেন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। আমরা সেটি হতে দিতে পারি না।’

প্রতিরক্ষা বিলের বিরোধিতার আরেকটি বড় কারণ হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে পেন্টাগনে একজন বিশেষ সমন্বয়কারী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন এবং উভয় দেশের সামরিক প্রযুক্তির পারস্পরিক সমন্বয় তদারক করবেন।

এ ছাড়া বিলে ‘ডেটা ফিউশন’-এরও প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেন্সর ও গোয়েন্দা উৎস থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে একটি সমন্বিত লক্ষ্যভিত্তিক তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আশঙ্কা, এতে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে পারে, যা ইসরায়েলের বিতর্কিত গণ-নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই সময়ে আলোচনায় থাকা ২০২৭ সালের গোয়েন্দা অনুমোদন বিলেও ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব রয়েছে।

এসব বিষয় সামনে এনে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট গত সপ্তাহে সহকর্মীদের উদ্দেশে চিঠি লিখে বিলটির অগ্রগতি ঠেকানোর আহ্বান জানান।

চিঠিতে তারা বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর চরমপন্থী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ করে দিতে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়া উচিত হবে না।’

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, এই বিল একদিকে যেমন অস্বাভাবিকভাবে বড় সামরিক বাজেটের পথ খুলে দেবে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘অবৈধ’ ইরান যুদ্ধেও কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বিলে এমন কিছু ইসরায়েল-সংক্রান্ত ধারা রয়েছে, যেগুলো প্রায় নীরবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগকে ইসরায়েলের সঙ্গে আরও বেশি গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির নির্দেশ দেবে—ইসরায়েল সরকার কী করছে, তা বিবেচনায় না নিয়েই?’

এদিকে কংগ্রেসের বাইরে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), জে স্ট্রিট, কোডপিংক এবং উইন উইদাউট ওয়ারসহ ১৪টি নাগরিক অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী সংগঠনও সিনেট সদস্যদের প্রতি বিলটির অগ্রগতি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তাদের দাবি, ট্রাম্পের অনুমোদনহীন ইরান যুদ্ধের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিষিদ্ধ করতে সংশোধনী আনার সুযোগ নিশ্চিত না করে এই বিল এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতেই অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান দলটির ভেতরে ইসরায়েল প্রশ্নে দ্রুত বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলটির ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রয়টার্স/ইপসোসের জুন মাসে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৫৯ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২ শতাংশে।

সূত্র:আলজাজিরা