গাজায় হামাসের দুই দশকের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল অবশেষে আজ
আন্তর্জাতিক সংবাদ:
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে যুদ্ধ, অবরোধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গাজা শাসনের পর প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছে হামাস। জরুরি সরকার কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন একটি টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়।
২০০৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৩২টির মধ্যে ৭৬টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসে হামাস। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই ইসরায়েল গাজার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অবরোধ আরোপ করে। ২০০৭ সালে ফাতাহর সঙ্গে সংঘর্ষের পর হামাস পুরো গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরও কঠোর হয়। কয়েক বছরের মধ্যে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ত্রাণনির্ভর হয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৮, ২০১২ ও ২০১৪ সালের যুদ্ধের পাশাপাশি অবরোধের মধ্যে প্রশাসন চালাতে হামাস বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলে। ২০১৭ সালে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা হিসেবে একটি প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করলেও রাজনৈতিক সমঝোতা সফল হয়নি। পরে ২০১৮ সালে ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকশন ফলো-আপ কমিটি’ গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব পালন শুরু করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি জিম্মিকে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও জরুরি সেবা পরিচালনার জন্য হামাস ‘গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি কমিটি’ গঠন করে। একই সময়ে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ইসাম আল-দা’আলিসসহ অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ‘গাজা পিস কাউন্সিল’ এবং ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ গঠন করা হয়। গত ৬ জুলাই হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জরুরি সরকার কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এই টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল এই পরিবর্তনকে সন্দেহের চোখে দেখছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রশাসনের সফলতা নির্ভর করবে গাজার বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তি, স্থানীয় পরিবার ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪৫ হাজার সরকারি কর্মী আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে জনসেবা ব্যাহত না হয়।
সূত্র: আলজাজিরা