গাজার শিশু হত্যার প্রতিবেদন, আলোচনায় ভারতের সাবেক বিচারপতি মুরলিধর
আন্তর্জাতিক সংবাদ:
গাজায় শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে আলোচিত তদন্ত প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতের সাবেক বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলিধর। একসময় ভারতে বিতর্কিত মামলায় সাহসী রায়ের জন্য আলোচনায় থাকা এই বিচারপতি এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে নজর কাড়ছেন।
২০২৬ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত ৯৪ পৃষ্ঠার জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট ফিলিস্তিনি নিহতের প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া ৪৪ হাজারের বেশি শিশু আহত এবং প্রায় ৫৮ হাজার শিশু এতিম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীনিবাসন মুরলিধর।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। স্নাইপার ও ড্রোন হামলা, মানবিক সহায়তা অবরোধ, মাতৃসদন ও নবজাতক চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা এবং পশ্চিম তীরে শিশুদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনাও এতে তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সুপারিশ করেছে, গণহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও মানহানিকর প্রতিবেদন, যেখানে হামাসের হাতে নিহত ও অপহৃত ইসরায়েলি শিশুদের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে মুরলিধর বলেন, হামাস শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে—এমন দাবি প্রমাণিত নয়। বরং প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অনেক শিশু দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজের সময় হামলার শিকার হয়েছে।
ভারতে বিচারক থাকাকালেও মুরলিধর একাধিক আলোচিত রায়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় সরকারি দলের এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই তাকে রাতারাতি অন্য হাইকোর্টে বদলি করা হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অবসরের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি জাতিসংঘের এই তদন্ত কমিশনে যোগ দেন। তার ভাষায়, "সবাই জানতে চায়, ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন কেন কার্যকর হচ্ছে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সুযোগ এলে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।"
সূত্র: আলজাজিরা