লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়সহ চারজন গ্রেপ্তার
ডেক্স নিউজ:
পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া
ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এক
আত্মীয় রয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন সন্দেহভাজন
পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুহাম্মদ রাজা
দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান ও সাজিদ আলী। শুক্রবার তাদের লাহোরের একটি আদালতে
হাজির করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার
অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায়
পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ (অপহরণ) এবং ৩৭৫এ (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) ধারায় অভিযোগ আনা
হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা
দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের আত্মীয়। উচ্চপর্যায়ের একজন রাজনৈতিক
ব্যক্তির পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে
তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন লাহোরে এক নেদারল্যান্ডসের
নাগরিক এবং এক ভেনেজুয়েলার নাগরিককে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের একটি স্থানে আটকে
রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং মুক্তিপণও দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার
বিষয়ে স্পেনে অবস্থানরত এক ভুক্তভোগীর বাবা পাকিস্তান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে
অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে
মুহাম্মদ রাজা দারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক
ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে রাজা দার তাদের
পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থাও করেন বলে তদন্তে
জানা গেছে।
লাহোরে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাদের আটকে রেখে
নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। আদালতে হাজির করার সময় দুই ভুক্তভোগী প্রধান অভিযুক্ত
হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেছেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র
জানিয়েছে।
পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা
চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।