চুয়াডাঙ্গায় হামের থাবায় ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে জেলাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত্যুর বিবরণ: নিহত শিশুর নাম *হুমায়রা খাতুন*। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমায়রাকে সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) *ডা. নাজমুল শাকিব* মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন:
"জেলায় এটিই হামজনিত কারণে প্রথম নিশ্চিত মৃত্যু। শিশুটির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল এবং পরীক্ষায় তার শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হাসপাতালে বর্তমানে আরও পাঁচজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।"
বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান:হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন রোগী হাম বা হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু, যারা পুষ্টিহীনতা বা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাম প্রতিরোধের জরুরি পরামর্শ
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এই প্রাদুর্ভাব রুখতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়েছেন:
টিকাদান: ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ (এমআর টিকা) নিশ্চিত করতে হবে।
আইসোলেশন: আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা ঘরে রাখতে হবে যাতে পরিবারের অন্য শিশুদের মাঝে ভাইরাস না ছড়ায়।
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া: গায়ে জ্বর এবং দানাদার র্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
ভিটামিন-এ হামে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ালে অন্ধত্ব বা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা দিলে এই মৃত্যু সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।