সংবাদ শিরোনাম

অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে ২৮৪ বছরের ঐতিহ্য

 প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০১ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে ২৮৪ বছরের ঐতিহ্য

প্রতিদিনের দেশ ডেস্ক রিপোর্ট :

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে অবস্থিত সাতানি জমিদার বাড়ি প্রায় তিন শতাব্দীর ইতিহাস বহন করলেও আজ তা চরম অবহেলার শিকার। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও এই স্থাপনাটি এখনো ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, জমিদার বাড়ির দুটি দালান নির্মিত হয় ১৭৪১ সালে নবাব আলিবর্দি খানের শাসনামলে, বর্গি আক্রমণ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে। স্থাপত্যশৈলী বিশ্লেষণে এর বয়স প্রায় ২৮৪ বছরের বেশি বলে ধারণা করা হয়।


প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে ২৪টি দালান। ঝোপঝাড়ে ঘেরা ও পরিত্যক্ত এসব দালান স্থানীয়দের কাছে ‘ভূতের বাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সংস্কারের অভাবে স্থাপনাগুলো ভেঙে পড়ছে।

একসময় এখানে নারায়ণ, মনসা ও দুর্গা মন্দির ছিল। একটি মন্দিরে একসঙ্গে তিনটি দুর্গাপূজার আয়োজন ছিল, যা এই অঞ্চলের ধর্মীয় ইতিহাসে বিরল। দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রা ও নাট্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

জমিদার বাড়ির প্রবেশপথে থাকা সহমরণ সমাধিক্ষেত্র সতীদাহ প্রথার নিষ্ঠুর ইতিহাসের স্মারক হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

একসময় সাতানিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে ইন্দির আইচসহ খ্যাতিমান পণ্ডিতরা শিক্ষকতা করেছেন। ভীম ভৌমিক ছিলেন উপমহাদেশখ্যাত খোলবাদক। তাঁদের উত্তরসূরিরা চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অবদান রাখছেন।

ডা. উত্তম কুমার সাহা জানান, বহু বছর আগে জমিদার বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, লিজ নেওয়া এক ব্যক্তি ঐতিহ্যবাহী গাছ কেটে ফেলেছেন এবং শহীদ সৈনিক আদিত্য সাহার সমাধি মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বেতারের ঘোষক ও প্রাবন্ধিক বিশ্বনাথ রায় বলেন, “একসময় জনবসতিপূর্ণ এলাকা আজ পরিত্যক্ত। দালানগুলোতে এখন বন্যপ্রাণী ও লতাগুল্মের আধিপত্য। দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে এই ইতিহাস হারিয়ে যাবে।”

প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এলেও সংরক্ষণের অভাবে তারা হতাশ হন। যথাযথ সংস্কার ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সাতানি জমিদার বাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।