সংবাদ শিরোনাম

জমির তদন্ত প্রতিবেদনে ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

 প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন   |   রংপুর

জমির তদন্ত প্রতিবেদনে ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার (ইউনিয়ন ভূমি সহকারী) প্রভঞ্জন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায় ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আরিফুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ সময় তাঁর জমির মালিকানার কাগজপত্র সঠিক আছে জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়।

লিখিত অভিযোগে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের চন্দ্র গ্রামের ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি তিনি ২০২২ সালে ১৪৮২৬ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে তাঁর মা মোছা. আমেনা বেগমের কাছ থেকে পান। পরে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৫৯৯০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরও ২ শতাংশ জমি তাঁর নামে হস্তান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে তিনি সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী মো. গোলাম আযম ওই জমির দুই শতাংশ দখল করে নেন। এ নিয়ে আমিনুল ইসলাম চলতি বছরের মার্চে আদালতে জমি পুনরুদ্ধারের মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে দায়িত্ব দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)র নির্দেশে সার্ভেয়ার আরিফুর রহমান ও তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায় ১৪ এপ্রিল সরেজমিনে তদন্ত করেন।


আমিনুলের অভিযোগ, তদন্তের সময় ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে দখলে থাকা দুই শতাংশ জমি গোলাম আযমের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর জমির দলিল, নামজারি, ডিসিআর ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘নিঃস্বত্ববান’ দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আমিনুল ইসলামের দাবি, প্রতিবেদনটি সঠিক নয় এবং তাঁকে হয়রানি করতেই সময়ক্ষেপণ করে এটি দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায়। তিনি বলেন, “অভিযোগটি মিথ্যা। কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. আরিফুর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি।