সংবাদ শিরোনাম

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন না হলে বিজয় নয়

 প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন না হলে বিজয় নয় ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল বিজয় মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের পথে রয়েছে।

লেইটার বলেন, ‘এই শাসনের পতন হতেই হবে।’ তাঁর দাবি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধসে না পড়লে তারা আবার নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব পুনর্গঠন করতে পারবে।

ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা কিংবা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার চেয়েও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনই ইসরায়েলের কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত লক্ষ্য কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে লেইটার সরাসরি বলেন, ‘অবশ্যই।’

তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা কবে বা আদৌ পতন হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য একটি পূর্বাভাস, নিশ্চিত কোনো ফলাফল নয়। কয়েক মাসের যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের পরও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় রয়েছে এবং বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি করার সক্ষমতাও ধরে রেখেছে।

ইরান এখনও বড় আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজ চলাচলে হামলা অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুতিরাও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে নতুন এলাকা দখল করেছে।

লেইটার স্বীকার করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের সময় নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তিনি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগের সময়ের তুলনা করেন। তাঁর মতে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনও আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারেননি অনেক বিশেষজ্ঞ।

ইরানবিরোধী চাপের পাশাপাশি গোয়েন্দা সহায়তা

লেইটার জানান, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য এবং ওয়াশিংটনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়ক তথ্য সরবরাহ।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ ও তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লেইটারের ভাষ্য, ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল সামরিকভাবে প্রধান ভূমিকা পালন করলেও পরে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন ওয়াশিংটন নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং দুই দেশ ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ কাজ করছে।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রকে এই অংশীদারত্বের প্রধান শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একটি পরাশক্তি, আর ইসরায়েল শক্তিশালী হলেও একটি ছোট আঞ্চলিক শক্তি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি।

শেষ আঘাতের’ সম্ভাবনার কথা

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ দেশটির সরকারকে পতনের খুব কাছাকাছি নিয়ে এলে ট্রাম্প আরও একটি সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন লেইটার।

তাঁর কল্পিত পরিস্থিতি অনুযায়ী, একপর্যায়ে ট্রাম্প মনে করতে পারেন যে অর্থনৈতিক চাপ ইরানের সরকারকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং এখন আরেকটি সামরিক অভিযান চালিয়ে সেটিকে পুরোপুরি ভারসাম্যহীন করে দেওয়া প্রয়োজন।

সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ‘শেষ আঘাত’ হানতে সহায়তার অনুরোধ জানানো হতে পারে বলে মন্তব্য করেন লেইটার। তবে এমন কোনো অভিযান ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে বা শিগগিরই হতে যাচ্ছে-এমন দাবি তিনি করেননি।

তিনি বলেন, ইসরায়েল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন এবং ইরানের জনগণের স্বাধীনতা দেখতে চায়।

তবে লেইটার স্বীকার করেন, ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একা নির্ধারণ করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণকেই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।

কিন্তু এমন কোনো গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমননীতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর আগে জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষ নিহত ও আরও হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্থিরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করে চলেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের সাধারণ মানুষ কীভাবে দুই দেশের সামরিক চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা সরকারকে উৎখাত করতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে লেইটার বলেন, তাঁর কাছে এর কোনো ‘নির্দিষ্ট সূত্র’ নেই। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরোধী শক্তিগুলোর বিভক্তিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।