ট্রাম্পের নীতির আনুগত্য যাচাইয়ের প্রশ্ন করা স্থগিত
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের কাছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি আনুগত্য যাচাইয়ের প্রশ্ন করা আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
শুক্রবার বস্টনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জর্জ ও’টুল তিনটি সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন। ইউনিয়নগুলো অভিযোগ করেছিল, অদলীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতেই ওই প্রশ্ন চালু করা হয়েছে।
প্রশাসন চাকরির আবেদনকারীদের একটি রচনা লিখতে বলেছিল। সেখানে তাঁদের ব্যাখ্যা করতে হতো, নির্বাচিত হলে কীভাবে তাঁরা ট্রাম্পের নীতি ও নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করবেন।
আবেদনকারীদের কাছে এই প্রশ্ন করা হয়েছে বিমান নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ, ক্রেন অপারেটর থেকে শুরু করে পারমাণবিক উপকরণ পরিবহনকারীর মতো বিভিন্ন পদের জন্যও।
বিচারক ও’টুল বলেন, সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ জানার বিষয়ে সরকারের কোনো বৈধ স্বার্থ নেই-এমন দাবি মামলাকারী ইউনিয়নগুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
তাঁর মতে, ইউনিয়নগুলোর সদস্যরা যুক্তিসংগতভাবেই প্রশ্নটিকে আবেদনকারীদের রাজনৈতিক মতামত যাচাইয়ের চেষ্টা হিসেবে নিয়েছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস সংস্কার আইনে এ ধরনের চাকরিতে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া নিষিদ্ধ।
আদালত আরও বলেছে, প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ কারণে প্রশাসনিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই ভিত্তিতে প্রশ্নটি ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছে।
মামলাকারীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের দাবি, ৭০ হাজারের বেশি ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ওই প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। এতে যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা সরকারি নিয়োগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের (এএফজিই) জাতীয় সভাপতি এভারেট কেলি বলেন, সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা অদলীয় সরকারি চাকরির মূল ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মামলায় এএফজিই ছাড়াও আমেরিকান ফেডারেশন অব স্টেট, কাউন্টি অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ যুক্ত ছিল।
অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে সংস্থাটি প্রশ্নটিকে ঐচ্ছিক বলে দাবি করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না-এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশে ফেডারেল চাকরিতে এমন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন, যারা দক্ষ এবং ‘আমেরিকান আদর্শ, মূল্যবোধ ও স্বার্থ এগিয়ে নিতে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ওই নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের মে মাসে ওপিএম বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করে। এর মধ্যে সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের ওই রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বিষয়টিও ছিল।
শুক্রবারের আদালতের আদেশের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়োগনীতি আপাতত বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ল।