সংবাদ শিরোনাম

ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এআই ক্লড ব্যবহার করেছে হুতিরা

 প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এআই ক্লড ব্যবহার করেছে হুতিরা ছবি- সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ক্লড ব্যবহার করেছে একটি গোষ্ঠী। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে অবস্থানকারী ওই গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরিতে ক্লড ব্যবহার করেছে।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশে ক্লডের অবৈধ ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, তারা উত্তর ইয়েমেনে সক্রিয় একটি ‘থ্রেট অ্যাক্টর’ গোষ্ঠী শনাক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি একই সঙ্গে তিনটি অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি চালাচ্ছিল।

উত্তর ইয়েমেনই হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। দেশটির রাজধানী সানাও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির মধ্যে ছিল একটি নির্দেশিত রকেট, যাতে বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায় এমন ফোনের মানের একটি ফ্লাইট কম্পিউটার এবং শেষ পর্যায়ে লক্ষ্যভেদ করার নির্দেশনা ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার লক্ষ্য নিয়ে একটি বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল সংস্করণসহ একাধিক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও ছিল।

অস্ত্রগুলোর সফটওয়্যার তৈরিতে গোষ্ঠীটি ক্লড ব্যবহার করেছে। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, এই কাজের জন্য অন্যথায় একদল প্রকৌশলীর প্রয়োজন হতো।

তবে গোষ্ঠীটি কার্যকর কোনো অস্ত্র মোতায়েন করতে পেরেছিল-এমন প্রমাণ অ্যানথ্রপিকের হাতে নেই। তারা একটি নির্দেশিত রকেট পরীক্ষামূলকভাবে ছুড়েছিল। পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোষ্ঠীটি আবার ক্লড ব্যবহার করে পরীক্ষাটি কেন ব্যর্থ হলো, তা বোঝার চেষ্টা করে।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হুতিরা ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকেও তারা সামরিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতে হুতিদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও গড়ে উঠেছে।

২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করে। তখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করতে তারা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছিল।