৫ হাজার ডলারের লভ্যাংশে করদাতার টাকা নয়
ছবি- সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেই অর্থ করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক।
বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, এই অর্থ করের টাকা থেকে দেওয়া হবে না। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ আয় করা হবে এবং তা বাজেট ঘাটতি বা করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভর করবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনসংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প ৫ হাজার ডলারের এই লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনের পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেই এই অর্থ দেওয়া হবে।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে।
অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে লুটনিক এখনো চালু না হওয়া ‘ট্রাম্প প্লাটিনাম কার্ড’-এর কথা বলেন। এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদনকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ আবেদনকারীরা বছরে ২৭০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হবে না—এমন সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।
লুটনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ১৫ হাজার ডলার প্রক্রিয়াকরণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারকে অতিরিক্ত ৫০ লাখ ডলার দিতে হবে।
লুটনিক দাবি করেন, এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে আগ্রহী এক লাখের বেশি মানুষের অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সেখান থেকেই প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে।
অর্থের সম্ভাব্য আরেকটি উৎস হিসেবে তিনি গত বছর সরকারের ইন্টেল-এ করা বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কয়েক মাসে ওই বিনিয়োগ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে।
লুটনিক বলেন, সরকারের কাছে ইন্টেলের প্রায় ৫০ কোটি শেয়ার রয়েছে। শেয়ারের দাম ২০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার হওয়ায় সরকারের বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থের একটি অংশ কংগ্রেসে পাস হওয়া বাজেট সমন্বয় প্যাকেজ থেকেও আসতে পারে।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করে তা অর্থনীতিতে ঢেলে দেওয়া হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
ডিস্যান্টিস বলেন, আরও দেড় ট্রিলিয়ন ডলার ধার করে তা অর্থনীতিতে প্রবাহিত করা হলে দেশের ঋণ আরও বাড়বে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল