সংবাদ শিরোনাম

তিউনিসিয়ায় চার কর্মী কারাগারে, অনশনকারীর অবস্থা সংকটজনক

 প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তিউনিসিয়ায় চার কর্মী কারাগারে, অনশনকারীর অবস্থা সংকটজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনপন্থী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আয়োজকদের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্তের ছয় মাস পরও তিউনিসিয়ায় চার কর্মী বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন। তাঁদের একজন তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনশন করায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পরিচালনা কমিটির সদস্য তিউনিসীয় কর্মী ওয়ায়েল নাওয়ার ১৬ আগস্ট থেকে অনশন করছেন। অব্যাহত আটকাদেশের প্রতিবাদে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেন।

তাঁর আইনজীবী ও তিউনিসিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের সভাপতি বাসেম ত্রিফি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নাওয়ারের অনশনের ২৪তম দিন চলছে এবং তাঁর অবস্থা ‘অত্যন্ত গুরুতর’। গত সপ্তাহে কারাগারে গিয়ে নাওয়ারের সঙ্গে দেখা করেন ত্রিফি।

আইনজীবীর ভাষ্য, নাওয়ারের ওজন ১৮ কেজি কমেছে। তাঁর রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা কমে গেছে। শ্বাস নেওয়া, হাঁটা ও কথা বলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে। শরীরজুড়ে, বিশেষ করে পেটে, ব্যথা রয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের সমর্থনে গঠিত কমিটির সদস্য ও কর্মী আনিস হারাথি বলেন, দীর্ঘদিন অনশন করলে শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হয়-নাওয়ার তা ভালোভাবেই জানেন। তবু তাঁর বিশ্বাস, নীরব থাকা অনশন চালিয়ে যাওয়ার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।

হারাথির ভাষায়, নাওয়ারের প্রতিবাদ শুধু তাঁর নিজের কারাবাসের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতিকে অপরাধ হিসেবে দেখানো এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় পরিণত করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, নাওয়ার তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করছেন।

কী অভিযোগে আটক

মার্চে এই তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত কর্মীকে প্রথমে আটক করা হয়েছিল। পরে তিনজন মুক্তি পেলেও নাওয়ার, নাবিল চেন্নুফি, ঘাসান হেনচিরি ও ঘাসান বুগদিরি এখনো বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে এখনো কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় হয়নি।

তিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিচার বিভাগীয় সংস্থা এই তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টিএপি বিচার বিভাগীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আয়োজকদের কাছে যাওয়া ‘সন্দেহজনক আর্থিক প্রবাহ’ নিয়ে তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীরা ওই অর্থের উৎস, কীভাবে তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফ্লোটিলার কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো কাজে অর্থ সরানো হয়েছিল কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

আইনজীবী ত্রিফির দাবি, তদন্তে অর্থ পাচার, গুরুতর বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা ছিল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি প্রচারণার অংশ। তাই সাধারণ আর্থিক লেনদেনের মতো এ কার্যক্রমকে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তাঁর আরও দাবি, অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম একটি পরিচিত স্থানে, নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় এবং রাষ্ট্রের নজরদারির মধ্যেই হয়েছিল।

তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ চার কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ্যে জানায়নি। তাঁদের আটক বা নাওয়ারের শারীরিক অবস্থা নিয়েও কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

আটক কর্মীদের সমর্থকেরা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং গাজামুখী আরেকটি ফ্লোটিলার আয়োজনকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর লক্ষ্যেই মামলা করা হয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাও অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করে কর্মীদের মুক্তি চেয়েছে।

নাগরিক সমাজ নিয়ে উদ্বেগ

তিউনিসিয়ায় নাগরিক সমাজের সংগঠন ও কর্মীদের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়ার মধ্যেই এই মামলা সামনে এসেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিউনিসিয়ায় আর্থিক ও ফৌজদারি তদন্তকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সাল থেকে দেশটির বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অন্তত ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা