রাশিয়া-ভিয়েতনাম তেল মজুত চুক্তি, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়া ও ভিয়েতনাম বুধবার ভিয়েতনামে কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তোলার বিষয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে। প্রেসিডেন্ট তো লামের মস্কো সফরের মধ্যে দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নিল।
তো লামের সঙ্গে বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ভিয়েতনামের নাগরিকদের জন্য শিগগিরই ভিসামুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা চালুর কাজ করছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
ভিয়েতনামের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লে থি থু হ্যাং এর আগে বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে তেল, গ্যাস ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ সহযোগিতায় একটি ‘অগ্রগতি’ আশা করছে হ্যানয়।
রুশ ও ভিয়েতনামি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পর পুতিন ও তো লাম যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তো লাম মস্কোয় রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন, নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং ফেডারেশন কাউন্সিলের স্পিকার ভ্যালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
পুতিন ও তো লাম ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে একটি সংক্রামক রোগ গবেষণাগারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।
তো লাম এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে মস্কো সফর করেছিলেন। সে সময় রেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন তিনি।
মস্কো সফরে তো লাম রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেন্নাদি জিউগানভ, রুশ যুদ্ধজয়ী প্রবীণ এবং মস্কোয় বসবাসরত ভিয়েতনামি প্রবাসীদের সঙ্গেও দেখা করেছেন। দূতাবাসে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিয়েতনামের বহুমুখী সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাশিয়া এখনও ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং দক্ষিণ চীন সাগরে গ্যাস প্রকল্পেও রাশিয়ার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটি এমন জলসীমায়, যার দাবি চীনও করে। তবে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ধীরে ধীরে উৎসের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে।